ছাত্রাবাস খোলা রাখার কোনো নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনাকালে এমসি কলেজের ছাত্রাবাস খোলা রাখার কোনো নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি। তারপরও ছাত্রাবাস কিভাবে খোলা রাখা হলো তা আমাদের তদন্তে দেখব এবং আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। এছাড়া এমসি কলেজ ক্যাম্পাস এবং ছাত্রাবাসের নিরাপত্তাও যথেষ্ট নয়।

দুই দিনের তদন্ত শেষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহিদুল খবির চৌধুরী এসব কথা বলেন।

করোনাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাত্রাবাস খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ছাত্রাবাসের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়েও আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

jagonews24

শাহিদুল খবির চৌধুরী আরও বলেন, আয়তন অনুযায়ী সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এছাড়াও অপ্রতুল সীমানা প্রাচীর, আলোর স্বল্পতার কারণেও নিরাপত্তার ব্যঘাত ঘটেছে বলেও আমরা মনে করছি।

তদন্ত কমিটির প্রধান আরও বলেন, এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের সঙ্গে এমসি কলেজের একজন শিক্ষার্থী জড়িত। অন্যরা আগে শিক্ষার্থী থাকলেও এখন তারা বহিরাগত। তারা এখন আর এমসি কলেজের ছাত্র নয়।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি, পুলিশ, কলেজ প্রশাসন, নির্যাতিতা নারী ও তার স্বামীর সঙ্গেও কথা বলেছি আমরা। আমরা মূলত এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও অবস্থান বিষয়ে তদন্ত করছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কমিটি প্রাথমিক প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেব।

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারীচাঁদ কলেজ (এমসি) ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত ৩ সদস্যদের তদন্ত কমিটি এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে আসে। বিকাল পাঁচটায় এ তদন্ত দল ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছেই তারা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে এসে কলেজ গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তারা। এর আগে গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহিদুল খবির চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়।

jagonews24

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যেই পালাক্রমে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুজন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার তরুণী। এসময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেন।

ছামির মাহমুদ/এমএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]