রংপুরে পুলিশ হেফাজতে জোড়া খুনের মামলার আসামির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
মৃত এজারুল

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পুলিশ হেফাজতে এজারুল ইসলাম নামে জোড়া খুনের মামলার আসামির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এজারুল আগে থেকেই হৃদরোগ আক্রান্ত ছিলেন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোহলী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া গ্রামের মৃত নুর আলীর চার ছেলে। তারা হলেন- জানারুল, এজারুল, হাকিনুর ও ভুট্টু।

২০০৩ সালে চার ভাইয়ের মধ্যে বাঁশ নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ায় হাকিনুর ও ভুট্ট মারা যান। এ ঘটনায় জানারুল বাদী হয়ে এজারুলকে আসামি করে ২০০৩ সালের ৫ জুন থানায় হত্যা মামলা করেন।

বিষয়টি শেষে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু এজারুল আদালতে ঠিকমতো হাজিরা না দেয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর তার নামে থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আসে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে এজাহারুলকে গ্রেফতারের জন্য তার নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সেখান থেকে তাকে রাত ১২টার দিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় তার বুকব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ফলে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ওই রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত এজারুলের শ্বশুর মোবারক আলী জানান, তার জামাই আগে থেকে হৃদরোগে ভুগছিলেন। এছাড়াও তার মেরুদণ্ডে অপারেশন করা ছিল।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এজারুল হৃদরোগ থেকে শুরু করে নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। আদালতের আদেশে তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে চিকিৎসার জন্য গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য বলেন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জিতু কবীর/এএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]