নববধূকে ধর্ষণের পর বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় রাজিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২০
গ্রেফতার রাজিব

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার আন্ধারমানিক গ্রামে এক নববধূকে (১৭) আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আসামি রাজিব ফকিরকে (১৮) ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বরিশাল র‌্যাব-৮-এর সদর দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়। রাজিব ফকির মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে আন্ধারমানিক গ্রামের হাচেন আলী ফকিরের ছেলে।

র‌্যাব-৮-এর এএসপি মুকুর চাকমা বলেন, নির্যাতনের শিকার নববধূর বাবার বাড়ি ও আসামিদের বাড়ি একাই এলাকায়। তিন মাস আগে একই উপজেলার ভাষানচর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। স্বামী ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ কারণে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি আন্ধারমানিক গ্রামে রেখে যান স্বামী।

১১ অক্টোবর রাতে প্রতিবেশী রাজিব ফকির নববধূকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। রাজিবের ঘরে আগে থেকে অবস্থান করছিলেন বাবু ব্যাপারী ও নাজমুল। তখন স্থানীয় ফারুক ভূঁইয়া বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকে দেন।

সেখানে সারারাত আটকে রেখে নববধূকে ধর্ষণ করেন রাজিব। রাতে ঘরে না ফেরায় নববধূর স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য পরান ভূঁইয়া পরদিন সকালে বিষয়টি জানতে পেরে রাজিবের বাড়িতে যান।

সেখান থেকে নববধূকে উদ্ধার করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত তিন যুবককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেন ইউপি সদস্য পরান ভূঁইয়া। পাশাপাশি ঘটনা গোপনের জন্য নববধূর পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেশীরা ঘটনা জেনে যাওয়ায় লজ্জা-অপমানে নববধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থানায় মামলা করেন নববধূ।

মামলায় মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আন্ধারমানিক গ্রামের বাসিন্দা বাবু, রাজিব ফকির, নাজমুল হোসেন, ফারুক ভূঁইয়া ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরান ভূঁইয়াকে আসামি করা হয়। মামলায় বাবু ব্যাপারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। রাজিব ফকির, নাজমুল হোসেন ও ফারুক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তা এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।

র‌্যাব-৮-এর এএসপি মুকুর চাকমা বলেন, মামলার খবর পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান আসামিরা। বরিশাল র‌্যাব-৮-এর একটি দল এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলার পরপরই রাজিব ফকির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় চলে যান। র‌্যাব-৮-এর দলটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজিব ফকিরের অবস্থান জানতে পেরে সোমবার ভোরে কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রাজিব ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়।

এএসপি মুকুর চাকমা আরও বলেন, এ মামলার চার আসামি এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সাইফ আমীন/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]