দুই দফায় ফেটেছে টিউমার, অভাবে মেয়েকে ঢাকায় আনতে পারছেন না বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২০

আয়াতী খাতুন ইলমার বয়স ১০ মাস। দুরারোগ্য মিনিংগোসেল (এক ধরনের টিউমার) শরীরে বহন করছে সে। দিনদিন বড় বড় হচ্ছে সেটি। রাজশাহী মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে। কিন্তু মেয়েকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার মতো টাকা নেই বাবা জালাল খান গোলাপের।

ইলমার রাজশাহী নগরীর বিলসিমলা বন্ধ গেট এলাকার জালাল খান গোলাপের সন্তান।

স্বজনদের ভাষ্য, অপারেশন হলেই নতুন জীবন ফিরে পাবে ইলমা। কিন্তু তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া, অপারেশনের আগে ও পরের খরচের টাকা জোগাড়ের ক্ষমতা নেই অসহায় বাবার। এ কারণেই অপারেশন আটকে আছে।

ইলমার বাবা আগে চা বিক্রেতা ছিলেন। ২০১২ সালে একটি দুর্ঘটনার পর থেকে বেকার বসে আছেন তিনি। সংসার চালান তার মেঝো মেয়ে। তার সামান্য আয়ে ইলমার চিকিৎসা অসম্ভব। ফলে চিকিৎসার সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে মানুষের দরজায় ঘুরছেন বাবা জালাল খান।

ইলমার পরিবার জানায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর জন্ম হয় মেয়েটির। অন্য দশটা শিশুর মতো সুস্থ অবস্থায় জন্ম নেয়নি ইলমা। জন্মের পর দেখা যায় তার কোমরের পেছনের দিকে বড় আকারের একটি টিউমার।

সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, এটা দুরারোগ্য মিনিংগোসেল। এটি অপসারণে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে এখনই নয়, কিছুটা বড় হওয়ার পর সেই অস্ত্রোপচার করা যাবে। সেখানে চিকিৎসকরা ইলমাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন ১৮ ডিসেম্বর।

এরপর ইলমাকে বাসায় নিয়ে আসে তার পরিবার। এরপর দিন দিন শিশুটির অবস্থা আরও গুরুতর হতে শুরু করে। এরপর গত ১৮ মার্চ হঠাৎ করেই তার টিউমারটি ফেটে যায়। এতে অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় সেদিনই শিশুটিকে আবারও রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার।

ওই সময় চিকিৎসরা জানান, শিশু ইলমার শরীরে অস্ত্রোপচার জরুরি। কিন্তু রামেক হাসপাতালে এ অস্ত্রোপচার হয় না। চিকিৎসকরা ইলমার অভিভাবকদের ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করাতে বলেন।

কিন্তু টাকার অভাবে মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আসতে পারেননি বাবা জালাল খান গোলাপ। এরই মাঝে গত ২৫ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ফেটে যায় ইলমার টিউমার।

Rajshahi-2

এরপর মেয়েকে নিয়ে ফের রামেক হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা আর ভর্তি নেননি। তাকে আবারও ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

ইলমার বাবা জালাল খান গোলাপ বলেন, টাকার অভাবে মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে যেতে পারছি না। মেয়েটা চোখের সামনে কষ্ট পাচ্ছে, চিৎকার করছে। কিন্তুই কিছুই করতে পারছি না। তিনি মেয়ের জীবন বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বানদের সহায়তা কামনা করেছেন।

তিনি বলেন, সমাজে অনেক হৃদয়বান ব্যক্তি আছেন। তাদের প্রতি আকুতি, আমার মেয়ের পাশে দাঁড়ান। তার জীবন বাঁচান।

ইলমার বাবা জালাল খানের সঙ্গে ০১৭২০৩৫৮০০০ (পার্সোনাল) নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এই নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তাও করা যাবে।

ফেরদৌস/এমএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]