পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হানের বাড়িতে সদরদফতরের তদন্ত দল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১০:৪০ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০

সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন পুলিশ সদরদফতর গঠিত তদন্ত দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তিন সদস্যের তদন্ত দলের প্রধান এআইজি মো. আইয়ুব, রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলেন।

এ সময় মো. আইয়ুব রায়হানের মাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার হবে।’

সকাল থেকে এসআই আকবরের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবেই রায়হানের বাড়িতে এসে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান এ আইজি মোহাম্মদ আইয়ুব। এ সময় দু-একদিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে পালাতে সহায়তাকারীদের শনাক্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশ হেডকোয়াটার্সের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ডিএন্ডপিএস-১) রেজাউল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পুলিশ হেডকোয়াটার্সের এআইজি (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) মো. আয়ুবকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম, এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মুনাদির ইসলাম চৌধুরী। তাদেরকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে এসএমপির কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি লাশ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ফরেনসিক রিপোর্টে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। টিটুকে গ্রেফতারের ফলে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এই প্রথম কাউকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়া হলো। টিটু বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। রায়হান হত্যার পর তাকেসহ চারজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ছামির মাহমুদ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]