পুলিশি নির্যাতনে রায়হান হত্যা : কনস্টেবল টিটু ফের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের অমানবিক নির্যাতনে রায়হান আহমদকে হত্যার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তকৃত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে ফের ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির সাময়িক বরখাস্তকৃত টিটু চন্দ্র দাসকে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই'র পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম টিটুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও পাঁচদিনের দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমান তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পিবিআই সিলেট জোনের পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম জানান, টিটু চন্দ্র দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আজ তাকে আদালতে হাজির করে আরও ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালতের বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২০ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে মহানগর পুলিশ লাইন্স কোয়ার্টার গার্ড থেকে টিটুকে গ্রেফতার করে পিবিআই। ওই দিনই বিকেল ৩টার দিকে টিটু চন্দ্র দাসকে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালতের বিচারক তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি লাশ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রায়হানের মৃত্যুর জন্য "দায়িত্বহীনতার" দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এছাড়া গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (সাময়িক বরখাস্তকৃত) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি হতে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ছামির মাহমুদ/এমএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]