রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলা যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান আহমদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলা যুবক সাইদুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আটক করা হয়।

বিকেলে সাইদুরকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম জানান, রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর রহমানকে বেলা ১১টায় পিবিআই সিলেট অফিসে আনা হয়। এরপর বিকেলে তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক করা হয়। পরে সাইদুরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে রাতে সাইদুর রহমান বন্দরবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জানান তিনি কাষ্টঘর এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে কাষ্টঘর থেকে রায়হানকে তুলে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর এই ফাঁড়িতে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন থানার ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ অপর পুলিশ সদস্যরা।

পরদিন (১১ অক্টোবর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার সাবেক বিডিআর সদস্য মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবীবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতওয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। ১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদরদফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইয়ের টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাষ্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়।

ঘটনার দিন বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। এই তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এছাড়া গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (সাময়িক বরখাস্তকৃত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি থেকে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ছামির মাহমুদ/বিএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]