স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার দুই আসামির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০

রংপুরে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার দুই আসামি বাবুল হোসেন (৩৮) ও আবুল কালাম আজাদ দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়াও নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম পৃথকভাবে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান রংপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য রায়হানুলের সঙ্গে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কসহ গণধর্ষণের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে ওই স্কুলছাত্রী বিচারকের কাছে জবাববন্দি দিয়েছে। বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। এছাড়াও গ্রেফতার দুই আসামি তাদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এবিএম জাকির হোসেন আরও বলেন, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এএসআই রায়হানুল গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ওই ছাত্রীকে নিয়ে তার পূর্বপরিচিত এজহারভুক্ত আসামি সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ওরফে আলেয়ার বাড়িতে যান এবং মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ওই স্কুলছাত্রী রায়হানুলের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলে তার মা বকাবকি করেন। এ কারণে মেয়েটি অভিমান করে ওইদিন রাতে রায়হানুলের পরিচিত সেই মেঘলার ভাড়া বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে অবস্থানকালে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে মেঘলা ও সুরভীর সাহায্যে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন বাবুল ও আবুল কালাম আজাদ।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়ায় ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। রাতের যেকোনো সময়ে তাকে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান পিবিআই পুলিশ সুপার।

এর আগে মামলায় গ্রেফতার অপর দুই নারী সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ওরফে আলেয়া ও সুরভী আক্তারকে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত মঙ্গলবার ভোরে লালমনিরহাট সদরের পূর্ব মাজাপাড়া এলাকার করি মাহমুদের ছেলে বাবুল হোসেন এবং পূর্ব থানা পাড়ার মৃত কাচু মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদক গ্রেফতার করে পিবিআই।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানাধীন ময়নাকুঠি কচুটারি এলাকার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মহানগর ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম। পরিচয়ের সময় রায়হানুল তার ডাক নাম রাজু বলে জানান ওই ছাত্রীকে। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত শুক্রবার ওই ছাত্রীকে সিগারেট কোম্পানির ক্যাদারের পুল এলাকার ডা. শহিদুল্লাহ মিয়ার ভাড়াটিয়া সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ওরফে আলেয়ার বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন রায়হানুল। পরে গত শনিবার রাতে ভাড়াটিয়া মেঘলা ও তার সহযোগী সুরভি আক্তারের সহায়তায় আরও দুজন তাকে গণধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ মেয়েটিকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধারসহ মেঘলাকে এবং পরে রাতে আরেক সহযোগী সুরভীকেও আটক করে। এছাড়া ওই রাতেই অসুস্থ ওই ছাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করায় পুলিশ।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্য রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজু ও মেঘলার নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আসামি করে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রায়হানুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। পরে দুপুরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেদিন থেকে পুলিশ লাইন্সে নজরদারিতে ছিলেন রায়হানুল।

অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সোমবার বিকেলে মামলাটি হারাগাছ থানা থেকে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণের ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই লালমনিরহাট থেকে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পিবিআই।

জিতু কবীর/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]