করোনাকালে রাজশাহীর ৮২৭ কলেজশিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ১০:৩১ এএম, ৩১ অক্টোবর ২০২০

করোনায় চরম বেকায়দায় পড়েছিলেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ঠিক সে সময় সুসংবাদ আসে এমপিওভুক্তির। গত মার্চ থেকে একযোগে শুরু হয় এমপিওভুক্তি কার্যক্রম। এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়ায় এমপিওভুক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৩০টি কলেজের ৮২৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এরিয়ারসহ বেতনভাতা পেয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক জনবল এমপিও বিহীন। তারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত। নানা সঙ্কট পাড়ি দিয়ে তারা এ পর্যন্ত এসেছেন। বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ওই ৮২৭ জনকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) রাজশাহী আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার এমপিও আবেদন জমা হয়েছে অনলাইনে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে একেবারেই স্বচ্ছতার সঙ্গে। নিজ নিজ আইডি থেকে সুপারিশসহ এমপিও আবেদন প্রেরণ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষরা। তাদের শিক্ষা অধিদফতরের বারান্দায় আসতেই হয়নি।

এমপিও আবেদনসমূহ সরাসরি জমা পড়েছে পরিচালকের আইডিতে। সহকারী পরিচালক (কলেজ) আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করেন। সুপারিশসহ সেই আবেদন চলে যায় উপপরিচালক (কলেজ) বরাবর। তিনিও যাচাই-বাছাই করে সুপারিশসহ সেই আবেদন পাঠিয়ে দেন পরিচালক বরাবর।

সেটি প্রোগামারের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) এমপিও কমিটির সভায় উত্থাপনের জন্য প্রেরণ করেন পরিচালক। দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের প্রেরিত আবেদন একই সভায় আলোচনাপূর্বক চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বাতিলকৃত আবেদনসমূহ পাঠানো হয় অধ্যক্ষ বরাবর। যাতে পরিমার্জন ও সংশোধন করে আবেদনকারীরা পুনরায় এমপিও আবেদনের সুযোগ পান। আবেদনসমূহে অনুমোদন ও বাতিলের পর সেগুলো ইএমআইএস সেলের আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমপিও আবেদন নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন তথ্য আবশ্যিকভাবে প্রদান করতে হয়। শর্ত পূরণ না হওয়ায় এরই মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলের বহু সংখ্যক আবেদন বাতিল হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশোধন, যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান ও সংযুক্তিসহ পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারপরও যথাযথভাবে সংশোধন না থাকায় কিছু আবেদন পুনরায় বাতিল হয়ে যায়। এতে ক্ষুদ্ধ হন আবেদনকারীরা।

অনেকেই ভিন্ন পথে এমপিও পেতে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। আর এই সুযোগ নেন রাজশাহী শিক্ষা দফতর কেন্দ্রিক দালাল চক্র। এমপিও পাইয়ে দেয়ার শর্তে মোটা অর্থ হাতিয়ে নেন এমপিও প্রত্যাশীদের কাছ থেকে। শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তা, এমপি এমনকি মন্ত্রীদের নাম ভাঙিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জিম্মি করছে চক্রটি।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মহিলা ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বগুড়া করোনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনেকগুলো আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

এমপিও আবেদন বাতিল হয়েছে জয়পুরহাট আক্কেলপুর মহিলা কলেজ, নাচোল মহিলা কলেজ, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বালাতৈর ডিগ্রি কলেজ ও বামুইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের। অথচ দালাল চক্র এমপিও পাইয়ে দেয়ার শর্তে এমপিও প্রত্যাশীদের কাছে মোটা অর্থ হাতিয়ে নেন।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও আবেদন বাতিলের ব্যাখ্যা দিয়েছে আঞ্চলিক শিক্ষা দফতর। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্য পদের অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রাপ্যতা নির্ধারণ করতে না পারায় সেই আবেদন বাতিল হয়েছে।

ত্রুটির কারণে বাতিল করা হয়েছে বগুড়া করোনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবেদনগুলো। সনদ ও রেজুলেশনে নামের বানানে অসঙ্গতি থাকায় আবেদন বাতিল হয়েছে আক্কেলপুর মহিলা কলেজের। নিয়োগ পরীক্ষার সিএস কপিতে ঘষামাজা থাকায় নাচোল মহিলা কলেজের একটি আবেদন বাতিল হয়ে যায়। পরে সংশোধন করে পুনরায় আবেদন এসেছে। নিষ্পত্তির জন্য সরেজমিনে যাচাইও হয়েছে।

আর রেজুলেশন ঘষামাজা থাকায় দুটি আবেদন বাতিল হয়েছে বালাতৈর ডিগ্রি কলেজের। সেটি সরেজমিনে তদন্ত করবে শিক্ষা দফতর। এছাড়াও সিএস কপিতে ঘষামাজা থাকায় বামুইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি আবেদন বাতিল হয়েছে। পরে একজন মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সেই এমপিও পার করার চেষ্টা চালান দালাল সিন্ডিকেটের এক সদস্য। বিষয়টি স্বীকার করলেও এনিয়ে মুখ খুলতে চান না এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) রাজশাহী আঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন বলেন, শিক্ষা অঞ্চলগুলোর পরিচালক কলেজপর্যায়ের এমপিও যাচাই-বাছাই করছেন। সরকারের এমপিও বিকেন্দ্রীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে এই কার্যক্রম চলছে। পুরো প্রক্রিয়া হচ্ছে অনলাইনে। এতে করে সেবাপ্রার্থী অল্প সময়ে গুণগত সেবা পাচ্ছেন। এমপিও প্রত্যাশীদের অফিসে অযথা ঘোরাঘুরি না করারও পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, করোনা সঙ্কটের ভেতর সরকার এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চালিয়েছে। এতে দুর্যোগের ভেতরেই প্রায় ৩০টি কলেজের ৮২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হয়েছেন। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এরিয়ারসহ বেতনভাতা পেয়েছেন তারা। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই কার্যক্রমে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। জনস্বার্থে এই চক্র ভাঙতে সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চান পরিচালক।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]