‘নিজের পক্ষে আনতে না পেরে’ ১৩ জনকে বাসা ছাড়ার নোটিশ অধ্যক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০

চারদিনের নোটিশে ১৩ আবাসিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে রাজশাহী সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রর (টিটিসি) বাসা ছাড়ার নোটিশ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হক। এতে চরম বিপাকে পড়েছে এই ১৩ পরিবার। ইতোমধ্যে নোটিশ পেয়ে বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন দুই পরিবার।

গত ৯ জুলাই রাজশাহী টিটিসিতে যোগদান করেন প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হক। এর আগে তিনি ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ১২ বছর পাবনা টিটিসিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘসময়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষককে মারধর, আত্মীয়করণ, অসদাচরণ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

রাজশাহী টিটিসি সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী টিটিসিতে যোগদানের পর নানা কৌশলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেন এই অধ্যক্ষ। এতে কর্মরতদের একটি অংশ তার আস্থা পেতে তদবির শুরু করেন। বাকিদের দমাতে আস্থাভাজন শিক্ষক-কর্মচারীদের কাজে লাগান তিনি।

এতেও বাগে আনতে না পেরে গত ১০ অক্টোবর বেছে বেছে ওই ১৩ আবাসিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে টিটিসির বাসা ছাড়ার নোটিশ দেন। আগের বরাদ্দ বাতিল করে ফ্রি বাসা বরাদ্দ দেন কম্পাউন্ডার লুৎফর রহমানকে। এর আগে যোগদানের পরপরই বিধি ভেঙে লুৎফর রহমানকে ব্যক্তিগত সহকারী নিযুক্ত করেন অধ্যক্ষ। এছাড়া পাঁচ শতাংশ ভাড়ায় আস্থাভাজন আরও ১০ জন কর্মচারীকে বাসা বরাদ্দ দেন।

নাম প্রকাশ না করে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী জাগো নিউজকে জানান, এই অধ্যক্ষ যোগানের পরপরই প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা শুরু হয়। তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে দেন। যাতে তিনি তার অনিয়ম নিবিঘ্নে করতে পারেন। এর আগে পাবনা টিটিসিতে কর্মরত থাকাকালীন একই কায়দায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছেন অধ্যক্ষ। এই ঘটনার তারা প্রতিকার চান। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, বাসা বরাদ্দ কমিটি ওই নোটিশ দিয়েছেন। যারা ওই সময়ের মধ্যে বাসা ছাড়তে পারবেন না তাদের চিঠির মাধ্যমে জানাতে হবে। বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিটি।

পাবনায় থাকাকালীন অনিয়ম বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনিয়ম নয়, তিনি পাবনা টিটিসিকে ঢেলে সাজিয়েছেন। তাতে কিছু লোক অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তার বিপক্ষে কিছু শিক্ষক অভিযোগ করলেও পরে তারাই আবার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনশক্তি, কমর্সংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) ড. প্রকৌশলী মো. সাকাওয়াৎ আলী বলেন, রাজশাহী টিটিসি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]