হানাদার বাহিনীর টর্চার সেলের পাশে মিলল মানুষের হাড়গোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২০

রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী টাউন হলের পাশে বধ্যভূমি থেকে মানুষের হাড় ও দাঁতের অংশ বিশেষ পাওয়া গেছে। সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে ওই টাউন হলের পাশের বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজের জন্য শ্রমিকরা মাটি খুঁড়লে এসব হাড় বের হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী টাউন হলটিকে টর্চার সেল হিসেব ব্যবহার করেছিল।

খননকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মাটিতে ভরাট হওয়া কুয়ার উপরিভাগ কেবল খোঁড়া হয়েছে। পুরো কুয়া খুঁড়লে মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া মানুষের আরও অনেক হাড়গোড় পাওয়া যাবে।

এদিকে, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ ছুটে যান টাউন হল বধ্যভূমি চত্বরে। বধ্যভূমি পরিদর্শনে এসে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির রংপুর সভাপতি ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু বলেন, এক বিশাল খবর। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এই টাউন হল বধ্যভূমি। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী টাউন হলে টর্চার সেল করেছিল। মুক্তিকামী বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষদের ধরে এনে টর্চার সেলে নির্যাতন ও হত্যা করেছিল। মা-বোনদের ইজ্জত লুটসহ তাদের হত্যা করে ফেলে দেয়া হয়েছিল টাউন হলের পাশের কুয়াতে। এই ইতিহাসের কথা এতদিন আমরা সবাই বলেছিলাম। হায়েনাদের হাতে মারা যাওয়া মানুষের আজ হাড়গোড় মিলেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাস সংরক্ষণ করে অমরগাথা ও স্মারকচিহ্ন জীবন্ত রাখতে চাই।

rangpur-1

সংবাদকর্মী রেজাউল করিম জীবন বলেন, আমার মতো তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। কিন্তু ইতিহাস থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মমতা, হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডবের কথা শুনেছেন। টাউন হল টর্চার সেলে এনে মানুষদের হত্যা করার ইতিহাস শুনেছি আমরা। কিন্তু সেই নির্মমতার শিকার হওয়া মানুষের হাড়গোড় ও দাঁতের অংশ বিশেষ অংশ নিজ চোখে দেখতে পেলাম। ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে এসব হাড়গোড় সংরক্ষণ করা জরুরি।

এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হলে বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদত হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেনসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের চেতনার সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকরা বধ্যভূমি পরিদর্শনে আসেন।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর ওই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিক টাউন হল ও আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন বৃদ্ধিসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে রংপুর জেলা প্রশাসন। বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।

জিতু কবীর/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]