সিলেট ট্রাফিক পুলিশে যুক্ত হলো ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

প্রযুক্তিগতভাবে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং দক্ষতা ও সমন্বয় বাড়াতে এসএমপির ট্রাফিক পুলিশে এবার যুক্ত হলো ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) ট্রাফিক পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের বিশেষ এই ক্যামেরা প্রদান করা হয়। সিলেটে প্রথমবারের মতো এই ক্যামেরা পেলেন এসএমপির ১০ ট্রাফিক সার্জন।

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে ট্রাফিক পক্ষ ২০২০ উদ্বোধন শেষে সার্জনদের গায়ে এই ক্যামেরা সংযুক্ত করেন এসএমপি কমিশনার নিশারুল আরিফ।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যা তাহের জানান, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যকারী যানবাহন ও চালক শনাক্ত, দুর্ঘটনা রোধ, কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয় বাড়াতে সড়কে দায়িত্বরত পুলিশের অনিয়ম প্রতিরোধ ও তল্লাশি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেশে ২০১৪ সাল থেকে বডি ওর্ন ক্যামেরা চালু করা হয়। সিলেটে প্রথমবারের মতো এই ক্যামেরা ১০ ট্রাফিক সার্জনের শরীরে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

police

সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কে প্রায়ই যানবাহন চালক, পথচারী ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পথচারী ও যানবাহন চালকরা আইন অমান্য করে থাকেন। আবার কখনো ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। এসব ক্ষেত্রে যাত্রী বা চালকের অভিযোগ থাকে পুলিশের বিরুদ্ধে। আবার পুলিশের অভিযোগ থাকে যাত্রী বা চালকের বিরুদ্ধে। অনেক সময় রাস্তায় দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করা যায় না। তাই সবগুলো বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। ক্যামেরাটি দায়িত্বরত পুলিশের বুকে কিংবা কপালে লাগানো থাকবে।

বডি ওর্ন ক্যামেরা সার্জনদের গায়ে পরিয়ে দিয়ে এসএমপি কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, ‘এর মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আমি আশাবাদী। বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে সরাসরি সার্জনের কার্যক্রম মনিটর করা যাবে। এতে ট্রাফিক পুলিশের সেবার মান বাড়বে; সাধারণ জনগণ উপকৃত হবেন।’

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এসএমপির ১০ জন ট্রাফিক সার্জনকে এ ক্যামেরা দেয়া হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের উন্নয়নের আরও বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার ছিল ট্রাফিক পক্ষের উদ্বোধনী দিন। দিবসটি উপলক্ষে এসএমপির পক্ষ থেকে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের ‘ট্রাফিক পক্ষ ২০২০’ উদ্বোধন করেন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ।

police

এসএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আবুল খয়েরের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সিলেটের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, মহানগর শাখার কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ভবতোষ বর্মন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বডুয়া, বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক ছানাউল হক, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি আফজাল হোসেন, পেট্রোলিয়াম অনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সভাপতি হাজি মো. মোস্তফা কামাল, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তাপশ দাস পুরকায়স্থ প্রমুখ।

ট্রাফিক পক্ষ উপলক্ষে মহানগরীর আম্বরখানা, মেন্দিবাগ, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, বন্দরবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ রোডে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মহানগরীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয়েছে। নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করতে মহানগরীর ছয়টি পয়েন্টে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। দুটি সুসজ্জিত পিকআপের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে মহানগর এলাকায় সচেতনতামূলক বার্তা ও মাইকিং করা হচ্ছে।

এছাড়া নগরীর হুমায়ুন রশিদ চত্বর, আব্দুস সামাদ চত্বর, পীর হাবিবুর রহমান চত্বর, কামরান চত্বর, আম্বরখানা পয়েন্ট, চৌহাট্টা, নজরুল চত্বর, মদিনা মার্কেট, তেমুখী পয়েন্ট, টিলাগড় পয়েন্ট, মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ও ট্রাফিক পক্ষ ২০২০ উপলক্ষে সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

ছামির মাহমুদ/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]