এবারও আশ্বাসের বাণী আ.লীগ প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

খুলনার চালনা পৌরসভায় ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই, নেই পর্যাপ্ত নালা। গণশৌচাগার ও চিত্তবিনোদনের জন্য নেই কোনো শিশুপার্কও। পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, এখানে নাগরিক সুবিধার কিছুই নেই। কিন্তু এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত কর দিতে হচ্ছে।

চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস বলেন, শহররক্ষা বাঁধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম গত নির্বাচনে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করা হবে। সেই অনুসারে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। পরিকল্পনা বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায়। এছাড়া নাগরিক সুবিধার জন্য কয়েকটি প্রকল্পের প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে পৌর শহর দৃশ্যমান হবে বলে দাবি করেন পৌর মেয়র।

গত নির্বাচনে সনত কুমার বিশ্বাস আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এবারও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয় পেয়েছেন তিনি।

সনত জানান, নৌকা প্রতীক নিয়ে এবারের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। এজন্য তিনি আগেভাগে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে এ পৌরসভা গঠিত হয়। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভার আয়তন ৯ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার। চালনা পৌরসভাটি ২০১৩ সালের আগস্টে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। লোকসংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী প্রণব মল্লিক বলেন, পৌরসভায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা আছে। এর মধ্যে সিসি রাস্তা ৩০ কিলোমিটার, পাকা ১৭ কিলোমিটার, সোলিংয়ের ৭ কিলোমিটার, এখনো কাঁচা (মাটির) ৩ কিলোমিটার রাস্তা। আড়াই কিলোমিটারের মতো জায়গায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ মো. ইমরুল ইসলাম বলেন, পৌরসভায় একটি পৌর ভবন ছাড়া তেমন কিছু নেই। তাও করা হয়েছে চালনা বাজারের শত শত মানুষের গোসলের পুকুর ভরাট করে।

তিনি অভিযোগ করেন, চালনা লেকের পাড় ছিল পৌরবাসীর জন্য একমাত্র বিনোদন স্থান। সেখানে পশুর হাট থাকায় দিন দিন ভেঙে পাড়টি এখন আর বিনোদনের উপযোগী নেই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, চালনার প্রাণকেন্দ্র হলো বৌমার গাছতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা। বাসস্ট্যান্ডের পাশেই একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও সোনালি ব্যাংক চালনা বাজার শাখা। কিন্তু সেখানে যানবাহন পার্কিং করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। পৌর শহরের নিদির্ষ্ট কোনো জায়গায় ট্রাকস্ট্যান্ড ও পৌর সুপার মার্কেট নেই।

এছাড়া পৌর বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ভাগাড় নেই। এ কারণে বাজারের যেখানে-সেখানে আবর্জনা পড়ে থাকে। এছাড়া ওই বাজারের বেশির ভাগ ময়লা আছাভূয়া খাল ও চালনা খালের পাড়ে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধে খালের আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

পৌরসভার সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিত পৌরসভাকে সাজানোর জন্য নকশা করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণসহ আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থাও হাতে নেয়া হচ্ছে। পৌরবাসীর জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে পানির লাইন বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। নাগরিক সুবিধা দেয়ার জন্য যা প্রয়োজন সেগুলোর জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায়। এছাড়া তিনটি প্রকল্পের আওতায় পৌরসড়ক ও ড্রেন নির্মাণে কাজ চলমান। এটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা থেকে কিছুটা রেহাই পাবে পৌরবাসী।

আলমগীর হান্নান/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]