এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় তিন চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৬:৪৪ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় আদালতে পৃথক তিনটি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশ।

এর মধ্যে গণধর্ষণ, বাদীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকি এবং নির্যাতিত নারীর গলায় থাকা স্বর্ণালঙ্কার, কানের দুল এবং নগদ ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় পৃথক ধারায় আটজনকে অভিযুক্ত করে দুটি চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

আর ঘটনার পরপরই ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় সাইফুর ও রনিকে অভিযুক্ত করে আরেকটি চার্জশিট আদালতে দাখিল করে পুলিশ। এই তিন চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিল।

বৃহস্পতিবার (০৩ ডিসেম্বর) সকালে সিলেটের পৃথক আদালতে বহুল আলোচিত এই গণধর্ষণের ঘটনায় তিনটি চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

এদিন দুপুরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সোহেল রেজা। এ সময় সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের দুটি চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), মিসবাহ উর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিন।

তাদের মধ্যে রাজন ও আইনুদ্দিন ছাড়া বাকিরা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এসএমপি জানায়, ‘গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৮টায় এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীকে কতিপয় সন্ত্রাসী জোরপূর্বক প্রাইভেটকারসহ এমসি কলেজ গেট থেকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের সামনে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও মারধর করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল এবং নগদ ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে এজাহারনামীয় ছয় আসামির বিরুদ্ধে শাহপরাণ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নম্বর ২১) রুজু হয়েছিল।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন রাতে শাহপরাণ থানা পুলিশ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাইপ গান, চারটি রাম দা, দুটি চাকু উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমানের (২৮) বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের একটি মামলা করা হয়।

ওই অস্ত্র উদ্ধারের মামলাটি তদন্ত শেষে সাইফুর রহমান এবং মাহবুবুর রহমান রনির বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

এই আট আসামির সবাই সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায় পুলিশ।

ছামির মাহমুদ/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]