ক্লিনিক মালিকের প্রতারণায় রাসিক কর্মচারী সর্বস্বান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউসুফ ইসলামের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) কর্মচারী হুমায়ুন কবীর। ৪০ হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে হুমায়ুন কবীরের ভবন ভাড়া নিয়ে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ক্লিনিক সম্প্রসারণ করেন ইউসুফ ইসলাম। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে ভাড়া না দিয়ে উল্টো ভবন মালিকের কাছেই দাবি করেছেন ৩৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

ভবন মালিক হুমায়ুন করীরের অভিযোগ, তিনি ক্লিনিক মালিক ইউসুফ ইসলাম ও তার স্ত্রী ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার প্রতারণার শিকার। প্রতিকার পেতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানিয়েছেন। জানিয়েছেন গণমাধ্যমকেও। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন কবীরকে পুলিশি হয়রানি করেছেন ইউসুফ। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এমনকি প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়া হয়েছে।

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাসিকের দৈনিক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হুমায়ুন কবীর।

স্বামীর সরলতার সুযোগ নিয়ে ইউসুফ তাকে প্রতারণার জালে ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়ুনের স্ত্রী রোজিনা বেগম।

তিনি জানান, তাদের প্রায় দেড় কাঠা জমিতে বসতঘর ছিলো।

‘ডা.ফাতেমা সিদ্দিকার স্বামী ইউসুফ ইসলাম এসে বলেন, আমি তোমাদের বিল্ডিং করে দেব। মাসে মাসে ৪০ হাজার টাকা ভাড়াও দেবো। সেই ভাড়া থেকে নির্মাণ ব্যয় কাটা যাবে। তারপরেও ভবন নির্মাণের জন্য ব্যাংক থেকে আমার স্বামীর নামে ঋণ নিয়ে পুরো টাকা নিজ হাতে নন, তিনিই খরচ করেন।’

রোজিনা আরও বলেন, ‘আমার স্বামী বোকাসোকা মানুষ। ভাউচারে তার সই নিয়ে কম দামে মালামাল কিনে এনে বেশি দাম দেখানো হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করায় তিনি বলেন, তুমি মেয়েমানুষ এসব বুঝবে না।’

তার অভিযোগ, ‘ব্যাংক থেকে সুদসহ ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চার তলা ভবন হয়েছে। ইউসুফ খরচ দেখিয়েছেন প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। কিন্তু খরচ হয়েছে ২০ লাখের মতো। এখানে অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বাড়তি দেখানো হয়েছে।’

উল্টো তিনি এখানে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নিজস্ব বিনিয়োগ দেখিয়েছেন। এই অর্থের সুদ দেখিয়েছেন আরও এক লাখ টাকা। সবমিলিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকার মতো বিনিয়োগ দাবি করেছেন ইউসুফ।

jagonews24

রোজিনার প্রশ্ন, ‘তাহলে আমার স্বামীর বিনিয়োগের অর্থ গেল কোথায়?’

ভুক্তভোগী এই নারী বলেন, ‘এখন ইউসুফের বক্তব্য যতদিন দেনা শোধ না হচ্ছে ততদিন তিনি ভবন ছাড়বেন না। আমরা নিরুপায়। প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি। ১০ বছর পর ভবন ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও তারা ছাড়ছেন না। প্রতিবাদ করায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে।’

জানতে চাইলে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে অভিযুক্ত ইউসুফ ইসলাম বলেন, ‘সবকিছুই হিসেব মতো হয়েছে। প্রতিটি কেনাকাটায় হুমায়ুন কবীরের সই রয়েছে। ভাড়ার অর্থ থেকে পাওনা সমন্বয় হচ্ছে।’

হুমকির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ক্লিনিকে হামলা হয়েছিলো। এতে তার স্ত্রী ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও কয়েকজন কর্মী আহত হন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানালে তারা এসে হুমায়ুনসহ কয়েকজনকে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবীর রাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এসএম মাহবুবুল হক পাভেলের দফতরে কাজ করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর পাভেল জানান, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এমন ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। তার বাড়ি নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি তিনি সেখানকার কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টুকুকে জানিয়েছেন।

কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টুকু বলেন, উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]