স্মার্টফোন কিনে না দেয়ায় কিশোরীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১০:৫২ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১
ফাইল ছবি

স্মার্টফোন কিনে না দেয়ায় অভিমান করে বরিশালের গৌরনদীর পশ্চিম বার্থী গ্রামে মাহফুজা খানম (১৫) নামের এক কিশোরীর কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছে।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাহফুজা ওই গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে ও বার্থী তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গৌরনদী থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, শনিবার দুপুরে পরিবারের সবার অজান্তে মাহফুজা ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। মুমূর্ষু অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখে সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পথে তার মৃত্যু হয়। পরে তার মৃতদেহ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মাহফুজার মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।

পরিদর্শক মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহফুজা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ঘর থেকে তেমন একটা বের হতো না। কয়েকদিন আগে একটি স্মার্টফোন কিনে দেয়ার জন্য বাবা-মায়ের কাছে বায়না ধরে মাহফুজা। কিনে না দেয়ার অভিমানে শনিবার দুপুরে পরিবারের সবার অজান্তে সে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে।

অন্যদিকে, শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া উপজেলার মাগুরা গ্রামের একটি পুকুর থেকে সুমাইয়া আক্তার (১৬) নামের কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মাইনুদ্দিন সরদারের মেয়ে ও গত বছর সে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছিল।

সুমাইয়ার স্বজনরা জানান, সকালে পার্শ্ববর্তী মাগুরা গ্রামে তার ফুফা পান্না ঢালীর বাড়িতে বেড়াতে যায় সুমাইয়া। দুপুরে একা ওই বাড়ির পুকুরে গোসল করতে যায় সে। দীর্ঘসময় তাকে না দেখে ফুফা বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় সুমাইয়াকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে দ্রুত আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

আগৈলাঝাড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সুমাইয়ার প্রতিবেশী ও স্থানীয় এক চিকিৎসক জানিয়েছেন সুমাইয়ার মৃগী রোগ ছিল। হঠাৎ হঠাৎ খিঁচুনি ওঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো। তারা বলছেন, পানিতে নেমে জ্ঞান হারিয়ে ডুবে সুমাইয়ার মৃত্যু হয়েছে।

এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]