ননদকে হারিয়ে ভাবির জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

রাজনৈতিক প্রতিনিধি নির্বাচনে কারও জয় হবে আবার কারও হবে পরাজয়- তা নিয়ে সবারই থাকে কৌতূহল। সেই নির্বাচনটি যদি ননদ-ভাবির মধ্যে হয়, তাহলে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয় সেই নির্বাচন। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে এমনই এক নির্বাচনের দেখা মিলেছে। যেখানে ননদকে (নারগিস বিবি) হারিয়ে ভোটে জয়ী হয়েছেন ভাবি (রোনা বিবি)। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফায় পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলে বেসরকারিভাবে সংরক্ষিত ১ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রোনা বিবি (ভাবি)। তিনি ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ড (১, ২ ও ৩) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অটোরিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬৯ ভোট। এ নিয়ে টানা দুবারের কাউন্সিলর হলেন তিনি।

এ নির্বাচনে রোনা বিবির ননদ নারগিস বিবি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে সক্ষম হননি। নারগিস জবা ফুল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭৫৯। অন্যদিকে পলিনা খাতুন পেয়েছেন ৯৬৪।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে নারগিস বিবির সঙ্গে আবদুল হামিদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে জামাই-মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ২০১০ সালের নির্বাচনে কসবা গ্রামের আবদুল হামিদের স্ত্রী নারগিস বিবি সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই বছর তার ভাবি রোনা বিবি প্রার্থী ছিলেন না।

২০১৫ সালের নির্বাচনে নারগিস বিবির সঙ্গে অন্য তিন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন বড় ভাই মাহাবুর রহমানের স্ত্রী রোনা বিবি। ওই বছরের নির্বাচনে ভাবির কাছে হেরে যান নারগিস বিবি। ভাবি নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। হাল ছাড়েননি ননদও। তিনি পাঁচ বছর এলাকার লোকজনের পাশে থেকেছেন বিভিন্নভাবে। নিজের মাঠ গুছিয়ে নেয়ার পাশাপাশি অতীতের ভুল শুধরে নেয়ার চেষ্টা করেন।

এবারের নির্বাচনেও সংরক্ষিত ওয়ার্ড (১, ২ ও ৩) থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন ননদ-ভাবি। ওই ওয়ার্ডে মোট পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গতবারের মতো এবারও সব আলোচনার শীর্ষে ছিলেন ননদ-ভাবি। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই সকাল হলেই একই বাড়ি থেকে দুই প্রার্থী প্রচারণায় নেমে পড়তেন। দুজনই স্বামী, সমর্থক ও কর্মী নিয়ে প্রচারণায় কাজ করতেন। প্রচারণা শেষে একই বাড়িতে ফিরতেন তারা।

মজার বিষয় হচ্ছে, তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দেয়নি। পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচারে লিপ্ত হননি তারা। এভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রতিদ্বন্দ্বী বোনের বিষয়ে বিজয়ী রোনা বিবির স্বামী মাহাবুর রহমান বলেন, ‘আমার বোন তার মতো নির্বাচন করেছে এবং আমার স্ত্রী নিজের মতো। এতে আমাদের মধ্যে কোনো রাগ-ঝাল নেই। ভোটাররা যে যার মতো ভোট দিয়েছেন। আমার স্ত্রীকেই যোগ্য ভেবেছেন, তাই সে বিজয়ী হয়েছে। এতেও কারো কোনো আক্ষেপ নেই।’

জয়ী রোনা বিবি বলেন, ‘নির্বাচন করার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। তাই যে যার মতো নির্বাচন করেছেন। হার-জিতের কারণে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, আগামীতেও থাকবে না। জনগণের পাশের থেকে কাজ করার সদিচ্ছার কারণেই নির্বাচন করা। সুযোগ থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি কাজ করতে চাই।’

এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]