৬ বছরেও হয়নি নিয়োগ পরীক্ষার ফল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০১:০৩ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

ফেনী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের ৬ বছর পার হলেও ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। এর ফলে ১৪টি পদের বিপরীতে ১৪৬টি শূন্য পদে ৩ হাজার ১৭০ জন আবেদনকারীর ভাগ্য ঝুলে আছে। অর্ধযুগ পার হওয়ার পরও ফলাফল ঘোষণা না করায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আবদুল মান্নান জানান, ২০১৫ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৪ পদের জন্য ১৪৬ জন জনবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এসব পদে ৩ হাজার ১৭০ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। পরে নিয়ম মোতাবেক সুইপার পদে আবেদনকারী ছাড়া সবাই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তুু এ যাবতকালে দাপ্তরিক নানা জটিলতায় পরীক্ষাটির ফলাফল প্রকাশ করা যায়নি।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ৩য় শ্রেণির ৫১০ জনের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮৬ জন। ৪র্থ শ্রেণির ২২৪ জনের মধ্যে ১১১টি পদ খালি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে জনবল সঙ্কটে দাপ্তরিক দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক জনবল নিয়োগ দেয়া হলে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমে বিদ্যমান স্থবিরতা কিছুটা কমে আসতো।’

চাকরিপ্রত্যাশী আবুল কালাম জানান, তিনি ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য বিভাগের সার্কুলার পেয়ে আবেদন করেছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ২৯ বছর। নিয়োগ পরীক্ষা ভালো হওয়ায় অন্য কোনো চাকরির চেষ্টা করেননি। বিশ্বাস ছিল ‘তার চাকরি হবেই’। কিন্তুু ২০১৭ সালে তিনি জানতে পারেন ওই বিজ্ঞপ্তির নিয়োগ কার্যক্রমটি অনিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে।

শুধু আবুল কালামই নন, এমন গল্প আরো অনেক নিয়োগ প্রার্থীরই রয়েছে।

এ বিষয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসেন দিগন্ত জানান, ‘নিয়োগ কার্যক্রমটি স্থগিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত পুনরায় কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নিয়োগপ্রার্থীদের অনেকেই এখন পর্যন্ত চাকরির আশা ছাড়েননি। তারা মাঝে মধ্যেই অফিসে এসে খবর নেন। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমরা তাদের কোনো আপডেট দিতে পারছি না।’

নুর উল্লাহ কায়সার/এমএইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]