‘এখন আমি নিজের বস নিজেই’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৫:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

‘কর্পোরেট অফিসে ইয়েস বস! ইয়েস বস! করতে করতে নিজস্বতা হারিয়ে ফেলছিলাম। তাই মনে মনে নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মায়ের নামে শুরু করি ব্যবসা। এখন আমি নিজের বস নিজেই!’ কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা গ্রামের কামরুল হাসান মাসুদ। উদ্যমী তরুণ হিসেবে এলাকার সবাই তাকে চেনেন।

মাসুদের বাবা মনিরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধ-পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশের ডিএসবি শাখায় চাকরিতে ছিলেন তিনি। নিজ গ্রামের নওহাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক। ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে। পরে তিনি দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

প্রথমদিকে গ্রামীণফোনে ছয় বছর এবং রবি ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে চার বছর কাজ করেন মাসুদ। চাকরিরত অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেন আর বেশিদিন কর্পোরেট গোলামী করবেন না। অল্প-অল্প করে জমাতে থাকেন পুঁজি। প্রায় ১০ বছর চাকরির সমাপ্তি ঘটিয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হন। নওহাটা পৌরসভার মোড়ে রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট দোকানঘর ভাড়া নেন তিনি। মায়ের নামে ব্যবসার নাম দেন- মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ। এরপর নিজের জমানো ২ লাখ টাকা এবং বাবার কাছ থেকে আরও কিছু অর্থ নিয়ে শুরু করেন ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা।

মাসুদ বলেন, ‘পৌরসভা এলাকা হওয়ায় প্রথম দিকে তেমন সাড়া পাননি তিনি। প্রথম মাসে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন, দ্বিতীয় মাসে ৫০ জন, তৃতীয় মাসে ৮০ জন এভাবে বাড়তে থাকে তার গ্রাহক সংখ্যা। এভাবে বছর খানেকের মধ্যেই পেয়ে যান হাজার খানেক গ্রাহক, আসতে থাকে সন্তোষজনক মুনাফা।’

তিনি জানান, প্রথম দিকে ব্যবসা চালানো আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। কিন্তু বাবা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় এলাকায় আমাদের পরিবারের সুনাম, সম্মান ও পরিচিতি বেশ দারুণ। গ্রাহক বৃদ্ধি ও ব্যবসা উন্নতির জন্য কিছু উদ্যোগ হাতে নিই। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সুবিধাগুলো এলাকার মানুষদের কাছে এক এক করে তুলে ধরি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলতে টাকা লাগে না। এছাড়া রয়েছে জমানো টাকার ওপর মুনাফা, বার্ষিক চার্জ ফ্রি, এফডিআর, ডিপিএস ও লোন সুবিধাও রয়েছে। শুধু তাই নয়, দ্রুত টাকা পাঠানোসহ রয়েছে শক্ত সিকিউরিটির ব্যবস্থা।

মাসুদ আরও জানান, বিষয়গুলো এলাকার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিই। এতে বেশ ভালো ফল পাই। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ব্যবসা শুরু করে আজ আমার প্রায় এক হাজারেরও বেশি গ্রাহক। গত এক বছরে আমি প্রায় ৭ লাখেরও বেশি মুনাফা করি। আগামী বছর আমার গ্রাহক প্রায় দুই হাজারে ঠেকবে। এতে মুনাফা আশা করছি আগের চেয়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা বেশি।’

তিনি আরও জানান, এজেন্ট ব্যবসায় সফলতা পেয়ে গ্রাহকের মন জয় করে আমি ‘ছোঁয়া’ নামে একটি সমিতিও চালু করেছি। উপজেলা সমবায় সমিতি থেকে রেজিস্ট্রেশনও পায় এটি। গত বছরের ৪ মার্চ এটি সমবায় সমিতির আন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সফলতার পরের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে আছে আমাদের এলাকায় একটি বৃদ্ধাশ্রম ও পথশিশুদের পুনর্বাসনের জন্য একটি আশ্রয় কেন্দ্র করার।’

আত্ম-উদ্যোগী হওয়ার বিষয়ে বেকার ও চাকরিপ্রত্যাশীদের বলেন, “হতাশ হয়ে মুখ থুবড়ে না পড়ে নিজেকে পারদর্শী মনে করেন। প্রথম অবস্থায় কারো সাহায্য লাগলে নিতে পারেন। কোনো একটা ছোট ব্যবসা দিয়েই সেটা চালু করতে পারেন। দেখবেন সফলতা আপনার আসবেই। আপনিও আমার মতো ‘নিজেই নিজের বস হতে পারবেন’।”

ফয়সাল আহমেদ/ আরএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]