করোনা কেড়ে নিয়েছে শফিকদের শিক্ষাজীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ১২:১৩ এএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

১৬ বছরের কিশোর শফিক। গত বছর পর্যন্ত সে কুয়াকাটার চাপলি বাজার ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। তবে করোনায় দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এবং পরিবারের রোজগার কমে যাওয়ায় শফিক এখন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বীচ চেয়ার পাহারাদারের কাজ নিয়েছে।

নতুন বছর, নতুন বই হাতে বিদ্যালয়ে যাবার কথা থাকলেও তা না করে পরিবারের সদস্যদের একটু ভালো রাখতে জানুয়ারি থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে কাজ নিয়েছে শফিক। এর ফলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতেই শিক্ষাজীবনের ইতি টানতে হলো শফিককে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ইতি টানতে হয়েছে। ফলে নতুন বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরার হার অনেকটা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের পাঠ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সরকার অনলাইনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পটুয়াখালী জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে কম।

শুধু শফিক নয়, করোনাভাইরাসের কারনে অনেকেরই শিক্ষাজীবনের ইতি টানতে হয়েছে। যেমন তৃতীয় শ্রেনীর শিশু সুমাইয়া। এই সময় তার বই খাতা নিয়ে স্কুলে থাকার কথা। কিন্তু সে এখন সমুদ্র সৈকতে মায়ের সাথে শুটকি তৈরিতে সহযোগিতা করছে। কবে বিদ্যালয় খুলবে সেই আশায় না থেকে অভিবাবকরা ছেলে মেয়েদের পরিবারের বিভিন্ন কাজে লাগিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘২০১৯ সালে পটুয়াখালী জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরার হার ছিল ২৭.১৫ শতাংশ। তবে এবার এই সংখ্যাটি কিছুটা বাড়তে পারে। যেহেতু অনেকদিন বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ কারনে অনেকে হয়তো অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে পরিবারের সহযোগিতা করছে।’

তবে এসব শিক্ষার্থীদের আবারও বিদ্যালয়ে যাতে ফিরিয়ে আনা যায় সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।

পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ছাইয়াদুজ্জামান বলেন, ‘২০১৯ সালে পটুয়াখালী জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরার হার ছিল ৪.২৫ শতাংশ । তবে এবার করোনা পরিস্থিতির কারনে এই পরিসংখ্যানটি যাতে না বাড়ে সে জন্য আগে থেকেই শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এলাকাগুলোকে কয়েকটি ক্লাস্টারে ভাগ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একেক এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা মোবাইল ফোনে ওই এলাকার শিক্ষার্থী এবং অভিবাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়গুলোতে ইতিমধ্যে বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং ৯৭ শতাংশ বই ইতিমধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি সব সংকট কাটিয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে পারব।’

আব্দুস সালাম আরিফ/এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]