পাঁচ লাখ টাকার জন্য চিকিৎসা থেমে আছে পল্লী চিকিৎসকের

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজু (৫৮)। যশোর জেলার মনিরামপুর থানার দেবীদাসপুর গ্রামের মৃত গাজী শামসুর রহমানের ছেলে। ডিগ্রি পাসকোর্স পড়াশোনা শেষে সংসার শুরু করেন। ২০১০ সালে পরিবার নিয়ে সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার পাথালিয়া ইউনিয়নের চারিগ্রাম এলাকায় এসে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি।

জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে চারিগ্রাম বাজারে মেয়ে নীরার নামে একটি ফার্মেসি খোলেন। ভালো বেচাকেনা ও জমজমাট ব্যবসা হওয়ায় তার দিন ভালোই চলছিল।

কিন্তু হঠাৎ ২০১৬ সালে হার্ট অ্যাটাক হলে পাল্টে যায় তার জীবনের গতি। রাতে অসুস্থবোধের পরের দিন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউটের আইসিউতে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা নীরিক্ষায় তার হার্টে বেশ কয়েকটি ব্লক ধরা পড়ে। এজন্য তাকে ওপেট হার্ট সার্জারি করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে এ অপারেশন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে জীবন পার করছেন পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক।

jagonews24

চার সদস্যের পরিবারে আব্দুর রাজ্জাক একসময় একাই সংসার খরচে যোগান দিলেও বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তার রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিমাসে ৮-১০ হাজার টাকা দিয়ে সংসারে সহযোগিতা করলেও ব্যয়ের তুলনায় তা অতি সামান্য।

একমাত্র মেয়ে ফাতেমা আক্তার নীরা শারীরিক এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এর ওপর স্ত্রীর অসুস্থতা যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। তিন বছর আগে স্ত্রী রেহানা বেগম স্ট্রোক করে দৃষ্টিশক্তি হারান। জমিজমা যা ছিল তা বিক্রি করে নিজের পাশাপাশি খরচ করেছেন স্ত্রীর চিকিৎসায়। আগে একেবারেই না দেখলেও চিকিৎসার পর এখন অল্প দেখতে পান রেহানা।

প্রায় দশ বছর ধরে আব্দুর রাজ্জাক পরিবার নিয়ে সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার পাথালিয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এখানকার তেমন কোনো লোকজনের সাথে পরিচয় নেই তার। জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ না থাকায় কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতাও পাননি।

jagonews24

পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। দোকানেও পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। যা ছিল তা বিক্রি করে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেছি। এছাড়া বেশিরভাগ সময় হাসপাতাল এবং বাসায় বিশ্রামে থাকার কারণে ঠিকমতো ব্যবসা চালাতে পারছি না। এই অবস্থায় নিজের এবং পরিবারের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

পাথালিয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফিউল আলাম সোহাগ বলেন, অসুস্থ চিকিৎসকের বিষয়টি এখনই প্রথম শুনলাম। তিনিতো আমার কাছে কখনও আসেননি। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আমার সাধ্যমতো ওনাকে সহযোগিতা করব।

আল-মামুন/এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]