স্বামীর নির্যাতনে চোখ হারাতে বসেছেন শারমিন, প্রয়োজন লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে চোখ হারাতে বসেছেন শারমিন আকতার নামে রংপুরের এক নারী। রংপুরের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা তাকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমইউ) অথবা জাতীয় চক্ষু রোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আর এ জন্য প্রয়োজন মাত্র এক লাখ টাকার।

কিন্তু হতদরিদ্র ভ্যানচালক বাবা শাহানত আলীর পক্ষে মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে একমাত্র শিশু সন্তানকে নিয়ে এখন দিশেহারা এই নারী। আর তাই অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেতে সরকারি-বেসরকারি কিংবা কোনো বিত্তবান ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের ভ্যানচালক শাহানত আলীর ৩ মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়েকে শারমিন আকতারকে (২০) চার বছর আগে ২০১৬ সালে পার্শ্ববর্তী ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের আনিছুর রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেন। বিয়ের পরই স্বামী আনিছুর পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে শারমিনকে নিয়ে চলে যান চট্টগ্রামে। সেখানে গিয়ে কারণে-অকারণে স্ত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন করতে থাকেন। কাঠের টুল দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করেন শারমিনের মাথায়। তাৎক্ষণিক আঘাত পেলেও বুঝতে পারেননি তার ভবিষ্যতের ভাবনা। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে তার বাম চোখটি সংকুচিত হয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে আনিছুর শারমিনকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

শারমিন বলেন, তখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসি। তারপরই জীবনে নেমে আসে অমানিশা। সন্তান জন্ম নেয়ার পর মাথার আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় চোখটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুদিন পরই স্বামী আনিছুর তাকে তালাক দেন। পরবর্তীতে রংপুরের দীপ আই কেয়ার ফাউন্ডেশনে যান। সেখানকার অরবিট অ্যান্ড আকুলো প্লাস্টিক সার্জন কনসালটেন্ট আব্দুর রব তার সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, তার চোখে একটি টিউমার হয়েছে। আর এ থেকেই ধীরে ধীরে নেমে আসে অন্ধকার। যা আর কোনোভাবেই ভালো হবে না।

শারমিন আরও বলেন, ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন-বর্তমানে তার বাম চোখটি রক্ষা করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অথবা আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার করা না হলে ভালো চোখটিও হারাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে কমপক্ষে এক লাখ টাকার। এতে দিশেহারা তিনি ও তার পরিবার।

এ অবস্থায় দিশেহারা এই পরিবারের সদস্যরা সরকারি-বেসরকারি কিংবা কোনো বিত্তবান ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করেছেন। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০১৭৫২-৯৯০৭৭২/০১৭১৫-১৩৮৫৬৫/০১৭৩৮০০৪৭৮৩।

জীতু কবির/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]