সিলেটে দুর্ঘটনায় নিহত ডা. রুমেলসহ ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সিলেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের মধ্যে ডা. আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান ওরফে রুমেলসহ তিন জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ আছর জানাজা শেষে মানিক পীর (রহ.) কবরস্থালে রুমেলকে ও ওসমানীনগরের সাদিপুর বাকি দুইজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ডা. শারমিন আক্তার অন্তরাও গুরুতর আহত হয়েছেন। ডা. অন্তরা বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা দিতে সিলেট থেকে এনা পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্বামী ডা. ইমরান।

এরআগে শুক্রবার ভোরে রশিদপুরের অদূরবর্তী ব্রিজের কাছে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। যাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. ইমরান। স্ত্রী ডা. অন্তরার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

জানা গেছে, সিলেট নগরীর ফাজিলচিশত এলাকার বাসিন্দা প্রখ্যাত প্যাথলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেনের ছেলে রুমেল জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সিলেট নগরের উইমেন্স মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। তাদের দুই কন্যা শিশু রয়েছে।

এদিকে ওসমানীনগরের সাদিপুর ইউনিয়নের ধরখা গ্রামে চলছে শোকের মাতম। দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের মধ্যে এই গ্রামের দুজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ এশা স্থানীয় আওরঙ্গপুর মাদরাসা প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে ধরখা পঞ্চায়েতি গোরস্তানে তাদের দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে হাজরো মুসল্লি অংশ নেন।

নিহতরা হচ্ছেন, মৃত মানিক মিয়ার ছেলে এনা পরিবহনের চালক মঞ্জুর আলী মঞ্জু (৪০) ও মনসুর আলীর ছেলে চালকের সহকারী (হেলপার) জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০)।

মঞ্জুর আহমদ মঞ্জু ও জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রতিবেশি ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘একসাথে দুটো মানুষ চলে গেছে। তাদের পরিবারের দিকে তাকিয়ে গ্রামের কেউই শান্তনা দেবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও ঢাকাগামী এনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন ও হাসপাতালে আরও দুইজন মারা যান। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান (৩৩), এনা পরিবহনের চালক ওসমানীনগর উপজেলার ধরখা গ্রামের মঞ্জুর আলী (৩৮), সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিঠাভরা গ্রামের সালমান খান (২৫), হেলপার ধরখা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪), লন্ডন এক্সপ্রেসের চালক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার রাজানিয়াকান্দি পশ্চিম পাড়ার রুহুল আমিন (৫০), ঢাকার ওয়ারি এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্র নাদিম আহমদ সাগর (১৯), সিলেট নগরের আখালিয়া নায়াবাজার এলাকা শাহ কামাল (৪৫) ও ছাতক উপজেলার বাউয়ালী গ্রামের মফিজ আলীর মেয়ে রহিমা খাতুন (৩০)।

বাদ আছর/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]