গোপন পিনেই উপবৃত্তির টাকা উধাও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১১:২৪ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
প্রতীকী ছবি

মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম বিকাশ কিংবা নগদ এজেন্ট পরিচয়ে প্রতারক চক্রের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়।

প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিশুরাও। রাজশাহীর বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তাদের হাতে আসার আগেই তা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সেবা কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

কিন্তু আধুনিক এ ব্যাংকিং সুবিধা সম্পর্কে অভিভাবকদের সুস্পষ্ট ধারণা নেই। এ সুযোগে প্রতারকচক্র অভিভাবকদের ধোঁকায় ফেলে কখনো নগদের এজেন্ট, আবার কখনো কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে গোপন পিন নম্বর। ফলে বৃত্তির টাকা সহজেই হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পবা উপজেলার বেড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে কৌশলে টাকা তুলে নিয়েছে এ প্রতারকচক্র।

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বলছেন, তাদের ফোনে টাকা আসলে শিক্ষকরা তাদের জানিয়ে দেন। তারা স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা তুলে থাকেন। গোপন পিন নম্বর সম্পর্কে তাদের তেমন ধারণা নাই।

প্রতারকরা তাদের ফোন করে নগদের এজেন্টের পরিচয় দিয়ে একটি পিন নম্বর পাঠায়। ফোনে তারা এটি জানতে চায়। ফোন কেটে দেয়ার পর একটা মেসেজ আসে। টাকা তুলতে গিয়ে দোকানদার বলে- ‘একাউন্টে একটি টাকাও নেই। জিরো ব্যালান্স!’

এ বিষয়ে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, ‘এ প্রতারণার বিষয়টি তারা অভিভাবকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা তেমন সচেতন না। তাদের ফোন করে গোপন পিন নম্বর জানতে চেয়েছে- তারা সেটা বলে দিয়েছে। আর এভাবেই প্রতারক চক্র তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে’।

শিক্ষকরা আরও বলেন, অভিভাবকদের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন। তিনি প্রতারণার শিকার অভিভাবকদের তালিকা চেয়েছেন। এছাড়া বিষয়টি তারা স্থানীয় থানায় জানিয়েছেন।

মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজনিন নাহার জানান, তার স্কুলের প্রায় ১৫ অভিভাবক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অভিভাবকরা তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলছেন। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন, প্রতারকচক্র গোপন পিন নম্বর হাতিয়ে নিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন।

পবা উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রতারণার শিকার অভিভাবকদের তালিকা তৈরি করে জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, ‘এ রকম একটি তালিকা উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। তবে সেখানে বিস্তারিত তথ্য নেই। এজন্য বিস্তারিত তথ্যসহ তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। সেটা পেলে নগদের অফিসসহ প্রশাসনকে তা দেয়া হবে’।

তিনি আরও বলেন, ‘যেসকল ফোন নম্বর থেকে টাকাগুলো হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া এরকম প্রতারণার শিকার যেন অভিভাবকরা না হন সেজন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে তাদেরকে সচেতন করা হচ্ছে’।

দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব জামান বলেন, এ রকম কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএমএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]