সন্তানের মতো থাকার আশায় কাজে আসা মেয়েটির পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০১:২১ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিখোঁজ গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈকে (১১) উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উজিরপুরের পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার আস্কর গ্রামের বিমল বাড়ৈর বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাকে নিয়ে এসে উজিরপুর থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

নিপা বাড়ৈ উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকার ননী বাড়ৈর মেয়ে। তার বাবা মানসিক প্রতিবন্ধী আর মা ২ বছর আগে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। ২ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নিপা মেজ। অভাব অনাটনের কারণে প্রায় ৭ মাস আগে নিপাকে ঢাকার জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের অর্থপেডিক্স ও ট্রমা বিশেষজ্ঞ ডা. সিএইএস রবিনের শ্যামলীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেয়া হয়।

নিপার স্বজনরা জানান, প্রায় ৭ মাস আগে চিকিৎসক সিএইএস রবিনের বাসায় নিপাকে কাজে দেয়া হয়। তখন চিকিৎসক রবিন ও তার স্ত্রী রাখি দাস বলেছিলেন নিজ সন্তানের মতো নিপাকে দেখে রাখবেন। ভালো খাবার দেবেন।

কিন্তু গত (২৪ ফেব্রুয়ারি) বুধবার সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় নিপাকে চিকিৎসক রবিনের কর্মচারী বাসুদেব ঢাকা থেকে উজিরপুরের জামবাড়ি তার গ্রামের বাড়ির কাছে একটি দোকানের সামনে ফেলে রেখে যায়।

এরপর নিপা বাড়িতে এসে জানায়, কাজে সামান্য ভুল করলে তার ওপর চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন। গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হতো। ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। বাসার মধ্যে আটকে রেখে প্রতিদিনই তাকে মারধর করা হতো। গলা টিপে ধরা হতো।

চিকিৎসকের স্ত্রী রাখি দাসের নির্যাতনে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের কারণে কয়েক দিন আগে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে কোনো ওষুধও খেতে দেয়া হয়নি। শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে চিকিৎসক রবিনের কর্মচারী বাসুদেবকে দিয়ে তাকে উজিরপুরে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিপাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

jagonews24

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের লোকজন ওই চিকৎসক ও তার স্ত্রীর শাস্তির দাবি জানান। মামলার ভয়ে চিকিৎসক রবিন ও তার স্ত্রী রাখি দাস উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অসুস্থ নিপাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে প্রলোভন ও নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন নিপার পরিবারের সদস্যদের।

এ অবস্থায় চাচা তপন বাড়ৈ শুক্রবার ভোরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সহায়তায় নিপাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শওকত আলী জানান, শিশুটিকে ভর্তির পর থেকেই নানা ধরনের লোকজন এসে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি পুলিশের অনুমতি ছাড়া নিপাকে নিয়ে যেতে নিষেধ করেন। শুক্রবার ভোর ৫টার পর থেকে নিপাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সামসুদ্দোহা তৌহিদ উজিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ওসি জিয়াউল আহসান জানান, নিপাকে উদ্ধারে শুক্রবার দিনভর অভিযান চালানো হয়। তবে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পরে, নিপাকে তার চাচার মামা শ্বশুর বিমল বাড়ৈর আগৈলঝাড়া উপজেলার আস্কর গ্রামের বাড়িতে রাখা হয়েছে। ভোরে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিপাকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিপা এখন থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইফ আমীন/এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]