চালের পথে হাঁটছে মুরগি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
ছবি : জিতু কবীর

বাজারে লাগাম টানা যাচ্ছে না চালের দামে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মুরগির দামও। সেইসঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মসলার বাজার। তবে সবজিতে এখনো স্বস্তি বিরাজ করছে।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রংপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট, নাজিরশাইল, বিআর-২৮ ও ২৯ গত সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি এক-দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট কেজি প্রতি ৬২-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬২-৬৪ টাকা। নাজিরশাইল কেজিপ্রতি ৬৬-৬৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৬-৬৮ টাকা।

বি-আর ২৮ কেজি প্রতি ৫৬-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। তবে বি-আর ২৯ কেজি প্রতি ৫৪-৫৬ টাকা ও পাইজাম কেজি প্রতি ৪৫-৪৭ টাকায় অর্থাৎ গত সপ্তাহের দরেই রয়েছে। এছাড়া কাটারিভোগ কেজি প্রতি ৭০-৭২ টাকা এবং চিনিগুড়া কেজি প্রতি গত সপ্তাহের দরে ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারে চাল কিনতে আসা হাসানুল হক বলেন, চালের দাম কমছে না। প্রতি মাসে বস্তা প্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে।

এদিকে আটা কেজি প্রতি ৩০-৩২ টাকা। ময়দা কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত সপ্তাহের দরেই চিনি কেজি প্রতি ৬৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল কেজি প্রতি ৬৫-৭০ টাকা ও চিকন মসুর ডাল কেজি প্রতি ১০০-১১০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বিস্তর ফারাক রয়েছে মসলার দামে। লং কেজি প্রতি ৭০০-৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৮০ টাকা। জিরা কেজি প্রতি ২৭৫-২৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ টাকা। বড় এলাচ কেজি প্রতি ৬৬০-৬৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০০ টাকা, ছোট এলাচ কেজি প্রতি ২২০০-২৪০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২১০০ টাকা, গোলমরিচ কেজি প্রতি ৪২০-৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০০ টাকা।

এছাড়াও সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েই চলেছে ভোজ্যতেলের দাম। খোলা সয়াবিন তেল তিন টাকা বেড়ে প্রতি লিটার ১২৭-১৩০ টাকা হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২৬-১২৮ টাকা। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৩৫-১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহের দরেই রয়েছে বলে জানান স্টেশন বাজার ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন।

jagonews24

সিটি বাজারের ডিম ব্যবসায়ী শামছুল আলম জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ টাকা কমে দেশি মুরগির ডিম ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা। গত সপ্তাহের দরেই ফার্মের মুরগীর ডিম ২৮ টাকা রয়েছে। পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫ টাকা। হাঁসের ডিম ৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা।

এদিকে শুধু চাল নয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে মুরগির দামও।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। মাসখানেক আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১২৫-১৩০ টাকা।

এছাড়া ব্রয়লারের পাশাপাশি বেড়েছে সোনালি ও লাল কক মুরগির দামও। গত সপ্তাহে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ২৯০-৩০০ টাকা হয়েছে। লাল কক মুরগির দাম ২২০-২৩০ টাকায় উঠেছে। দেশি মুরগি ৩৬০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মুলাটোল আমতলা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রাহাত হোসেন বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহ তুলনামূলক কম। এ কারণেই দাম বেড়েছে। কিছু দিন আগেও তিনি কেজি প্রতি ১২৫ টাকায় ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেছেন। এখন সেই মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে সবজির বাজারে এখনও স্বস্তি রয়েছে বলে জানান সিটি বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, কার্টিনাল আলু ১৪ টাকা, শিল আলু ২০ টাকা, ঝাউ আলু ১৬-২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

আর পেঁয়াজ ২৮ টাকা, আদা ৬০-১২০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা, শুকনা মরিচ ২৩০ টাকা, ফুলকপি ৭ টাকা, বাঁধা কপি ৬-৭ টাকা, শিম ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৫-২২ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মূলা ৫-৬ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ১৫-২০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ২০-২৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া কেজি প্রতি ১২-১৬ টাকা, পটল ৮০-১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, টমেটো ১০-২০ টাকা, গাজর, শসা ও মটরশুটি ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ধনেপাতা ১০ টাকা, লালশাক ৫ টাকা, পালংশাক ১০ টাকা, লাউশাক ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান শাক ব্যবসায়ী নাসিম।

জিতু কবীর/এসএমএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]