যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফিরোজ শিকদার ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমএ আজিজের ভাগনে যুবদল নেতা রোমেল শিকদারের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে দোকান ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর ধরে উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক বন্দর পয়সারহাটে তারা পাঁচটি দোকানের ভাড়া উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন। কয়েক দিন আগে ফিরোজ শিকদার বিক্রির উদ্দেশে পয়সারহাটের সরকারি জমির একটি রেইনট্রি গাছ শ্রমিক দিয়ে কেটে পার্শ্ববর্তী একটি স-মিলে রাখেন। সরকারি জমির গাছ কাটার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশে বুধবার (৩ মার্চ) বিকেলে ওই স-মিল থেকে কাটা গাছের অংশবিশেষ জব্দ করে বন বিভাগ।

এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফিরোজ শিকদার ও যুবদল নেতা রোমেল শিকদার মিলে সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ করে অবৈধভাবে ভাড়া আদায়ের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

পয়সারহাটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ২০১৮ সালে পয়সারহাট বাজার কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। এরপর কমিটি হয়নি। কিন্তু ফিরোজ শিকদার নিজেকে বাজার কমিটির সেক্রেটারি দাবি করে আসছেন। পাশাপাশি ফিরোজ শিকদার ও তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত যুবদল নেতা রোমেল শিকদার মিলে পয়সারহাটে সরকারিভাবে নির্মিত মাল্টি শেডের সামনের দোকান গত এক বছর আগে দখলে নিয়ে তা গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেন।

তারা আরও জানান, এছাড়া মাল্টি শেডের সামনের জায়গা দখলে করে ফিরোজ শিকদার তিনটি দোকানঘর তুলে তিনজন কামারের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকেও ভাড়া আদায় করে আসছেন ফিরোজ শিকদার ও রোমেল শিকদার।

পয়সারহাট বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ও বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপুল দাস বলেন, ‘গাছ বিক্রির খবর স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে মঙ্গলবার শুনেছি। এরপর আমি প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে বাজার কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ফিরোজ শিকদারকে ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধার বিষয়ে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। কমিটি নেই। ফিরোজ শিকদার কীভাবে নিজেকে সেক্রেটারি দাবি করেন তা বোধগম্য নয়।’

দোকান দখল করে ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মনীন্দ্র নাথ হালদার জানান, ইউএনওর নির্দেশে তিনি বুধবার বিকেলে নরোত্তম হালদারের স-মিল থেকে কাটা গাছের অংশ জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়ায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফিরোজ শিকদার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ঝড়ে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। স্থানীয় মসজিদের উন্নয়নের জন্য তা বিক্রি করা হয়েছে। সরকার থেকে দাবি করা হলে গাছ বিক্রির টাকা পরিশোধ করা হবে।’

হাটের দোকান দখলের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কামাররা ব্যবসা করার জন্য দোকান চাইলে তাদের বাজারের মধ্যে বসার জন্য ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে স্থানীয় যুবদল নেতা ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এমএ আজিজের ভাগনে রোমেল শিকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি কল রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘দরপত্র আহ্বান ছাড়া গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। ফিরোজ শিকদারকে তলব করা হয়েছে। তার ব্যাখ্যা শুনে ও তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সরকারী হাটের জমি দখল করে ভাড়া উত্তোলনের বিষয়ে ইউএনও মো. আবুল হাশেম বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। শিগগিরই তিনি পয়সারহাটে পরিদর্শনে যাবেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

সাইফ আমীন/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]