দাকোপে ইউপি নির্বাচনে আ.লীগে প্রার্থীর মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জমে ওঠার পূর্বেই খুলনায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্যানেল তৈরিতেই গঠণতন্ত্র পরিপন্থী উপায়ে যোগ্য ও বিগত দিনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বাদ দেয়ারও অভিযোগ ওঠে।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেছেন দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিহার মন্ডল।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্য শুরু করেছেন দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন। লঙ্ঘন করছেন দলের গঠনতন্ত্র। লাউডোব ইউনিয়নের যোগ্য প্রার্থী শেখ যুবরাজ, সাগর চন্দ্র বাছাড়, ধ্রুব শংকর রায়সহ অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন তার রোষানলে পড়ে। শুধুমাত্র লাউডোব ইউনিয়নেই নয় একই অবস্থা দাকোপের নয়টি ইউনিয়নেই।’

বক্তব্যের শুরুতেই নিহার মন্ডল বলেন, ‘আগামী ১১ এপ্রিল উপকূলীয় অঞ্চল খুলনার দাকোপ উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের প্যানেল তৈরির জন্য আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক কর্তৃক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ২৮(৩) (ঙ) ধারার বিধানমতে প্রত্যেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক বর্ধিত সভা আহবান করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ন্যূনতম তিনজন প্রার্থীর নাম দিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্যানেল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ, আমি লাউডোব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমার ইউনিয়ন সভাপতি আমাকে না জানিয়ে নিজেই বর্ধিত সভা আহ্বান করে গতকাল ৩ মার্চ একটি সভা করে। যারা গঠনতন্ত্রের ২৮(৩) (ঙ) ধারা পরিপন্থি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেন উপস্থিত হয়ে তার অনুগত তোষামোদকারীদের তিনজন নেতার নাম দিয়ে স্বেচ্ছাচারের ভিত্তিতে একটি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর প্যানেল প্রস্তুত করেন। যা রীতিমত পক্ষপাতমূলক এবং চরম একনায়ক তান্ত্রিক আচরণ। ওই প্যানেলের এক নম্বর প্রার্থী সরোজিত কুমার রায় ২০১৬ সালের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় দল থেকে বহিষ্কৃত হন। লাউডোব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপজেলা শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতি গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ। তিনি ওই বর্ধিত সভায় নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে প্রভাব বিস্তারের জন্যই হাজির হয়েছিলেন।’

নিহার মন্ডল বলেন, ‘আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রকৃত ও ত্যাগী প্রার্থীদের নাম প্যানেলে অন্তর্ভুক্তি হয়নি। এসব কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দাকোপ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো দাকোপ উপজেলায় রাজাকারদের শীর্ষে ছিলেন আবুল হোসেনের পিতা আরশাদ আলী। দাকোপ উপজেলার রাজাকারদের নামের তালিকায় ৫৮নং ক্রমিকে আছে তার পিতা আরশাদ আলীর নাম। খুলনার দাকোপ উপজেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেই দুর্গে ফাটল ধরাচ্ছে স্থানীয় কতিপয় ষড়যন্ত্রকারীরা। যার নেতৃত্বে রয়েছেন শেখ আবুল হোসেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দাকোপ আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘একটি পয়সাও আমি আবুল হোসেন কারও কাছ থেকে গ্রহণ করিনি। এসব অভিযোগ অবান্তর। সবকিছুই গঠনতন্ত্র মোতাবেক করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনকারী নিহার মন্ডল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত। দল থেকে বিতাড়িত। উপজেলা নির্বাচন ও ইউপি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে সে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের মিটিং-মিছিলে ডাকলেও সে আসে না।’

কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি বলে দাবি করেছেন লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান সরোজিত কুমার রায়। গেল নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন তিনি।

আলমগীর হান্নান/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]