লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, দুই মানবপাচারকারীর ৭ বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১

উচ্চ বেতনে ভালো চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে এক যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের দায়ে মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদেরকে পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে বরিশাল মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল হোসেন এ রায় ঘোষনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইউম খান কায়সার এ তথ্য জানিয়েছেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজীরচর এলাকার আব্দুল জলিল সরদার এবং ঢাকার বনানীর একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মো. আনিছুর রহমান। রায় ঘোষণার সময় আব্দুল জলিল কাঠগড়ায় ছিলেন। তবে আনিছুর রহমান পলাতক। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অন্য দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইউম খান কায়সার জানান, লিবিয়ায় থাকা-খাওয়া ফ্রি ও মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মুলাদী উপজেলার খালাসীর চর এলাকার আবুল কালাম ওরফে মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৫ সালে ৫ লাখ টাকা নেন জলিল সরদার ও মো. আনিছুর রহমান। এরপর কালামকে সুদানে নেয়া হয়। সেখানে গিয়ে কালাম দেখতে পান তার মতো আরও ৬৫ জন লিবিয়ায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে। সুদানে কয়েকদিন অবস্থানের পর মালবোঝাই ট্রাকে করে তাদের লিবিয়ায় নেয়া হয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে কামালের পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেয়া হয়। এরপর অন্ধকার কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়। সেখানে খাবার ও পানি দেয়া হতো নামমাত্র। দিনে একবার ভাত ও সেদ্ধ আলু খেতে দেয়া হতো। দিনের পর দিন হাত-পা বেঁধে রাখা হতো। আর বাঁচতে চাইলে বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা পাঠানোর কথা বলা হতো।

তিনি আরও জানান, কামালের কষ্টের কথা শুনে তার পরিবারের সদস্যরা দুই লাখ টাকা লিবিয়ায় পাঠান। মুক্তিপণের টাকা পেয়ে কামালকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক হন কামাল। অবৈধভাবে অভিবাসনের অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনজীবী কাইউম খান কায়সার বলেন, লিবিয়ায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুলাদীর আব্দুল বারেক খান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কামালের পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেন। পরে তার সহায়তায় কারাগার থেকে মুক্ত হন কামাল। দেশে ফিরে এসে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জলিল সরদার ও মো. আনিছুর রহমানসহ ৪ জনকে আসামি করে বরিশালের একটি আদালতে মামলা করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুলাদী থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন খান ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ৪ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত জলিল সরদার ও আনিছুর রহমানকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করেন।

সাইফ আমীন/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]