‘প্রজন্মকে রক্ষা করতে নদীর অস্তিত্বকে বাঁচাতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২১

সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদের বড় অংশজুড়ে রয়েছে নদী। তাই এই প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে নদী বাঁচাতে হবে। পৃথিবীর সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদী তীরে। আজ নদীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই। দখল-দূষণের মাধ্যমে নদীকে আমরা প্রতিনিয়ত বিপন্ন করছি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে নদীর অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে রোববার (১৪ মার্চ) দুপুরে সুরমা নদীর চাঁদনীঘাটে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট শাখা ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

নদীপ্রেমী সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ডে অব অ্যাকশন ফর রিভারস) নদীর প্রতি জবাবদিহি করার দিন। নদী আন্দোলনকারীদের আন্দোলন জোরদার করার শপথ নেয়ার দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্থ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘নদী আমাদের প্রতিনিয়ত দান করে চলেছে, সেই দানের প্রতিদান আমরা কীভাবে দিই, তার হিসাব-নিকাশ করতে হবে। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস লিখতে হলে নদীর কথা লিখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষের অন্যতম স্লোগান ছিল-তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা। আজ আমরা সেই ঠিকানা হারাতে বসেছি।’

jagonews24

স্বাগত বক্তব্যে বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘১৯৯৭ সালে ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দেওয়া এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেখানে একত্র হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। তাইওয়ান, ব্রাজিল, চিলি, লেসোথো, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা ১৪ মার্চকে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশে নদীকৃত্য দিবস উদযাপন শুরু হয় ২০০৬ সাল থেকে। সিলেটে ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এই দিবস উদযাপন করে আসছে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাপা সিলেট শাখার সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. নাজিয়া চৌধুরীর আন্তর্জাতিক নদী দিবস উপলক্ষে বাপাসহ বিভিন্ন নদী বিষয়ক সংগঠনের যৌথ দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সব নদীর সীমানা নির্ধারণ, নির্মোহভাবে দখলদার উৎখাত ও তা দখলমুক্ত রাখতে হবে, নদী নামক জীবন্ত সত্ত্বার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, নদীতে বাঁধ-ব্যারেজ-রেগুলেটর বসানোর বেষ্টনী নীতি ভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশ ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ নামের সেই একই ভুল ব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে, মৃত ও ভরাট নদী ড্রেজিং করে তার প্রবাহ ও নাব্য পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং নদীর মাটি/পাড় ইজারা দেয়া বন্ধ করতে হবে, ভূমি মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসমূহ, নগর উন্নয়ন সংস্থাসমূহ, বিআইডব্লিটিএ ও নদী কমিশনকে দৃঢ়ভাবে নদীবান্ধব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

ছামির মাহমুদ/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]