মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে খেজুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২১

দফায় দফায় বৃদ্ধির পর কমতে শুরু করেছে মুরগির দাম। তবে রমজানকে ঘিরে দাম বেড়েছে খেজুরের।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা চাল-ভোজ্যতেল-মসলার দামও কমছে না। প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষ।

শনিবার (১০ এপ্রিল) রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫৫-১৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ টাকা কমে সোনালী মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা। দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৪২০-৪৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও লেয়ার মুরগি গত সপ্তাহ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারে মিনিকেট, নাজির শাইল, বি-আর২৮, বি-আর ২৯, পাইজাম ও গুটিস্বর্ণা গত সপ্তাহের দরেই রয়েছে। মিনিকেট কেজিপ্রতি ৬১-৬৩, নজিরশাইল ৬৮-৭২, বি আর-২৮ ৫৬-৫৮ ও বি আর-২৯ বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকায়। পাইজাম ৪৬-৪৮ ও গুটি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৩-৪৫ টাকা। তবে দেশির তুলনায় এলসি চালের দাম কিছুটা কম বলে জানান চাল ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

বাজারে আসা দিনমজুর আসাদুল হোসেন মনির বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন কাজ করেও অভাবে দিন পার করতে হয়। এখন করোনার কারণে সরকারি বিধি-নিষেধ চলছে। ফলে কাজ না থাকায় দুবেলা-দুমুঠো খাওয়া কঠিন। মাছ-মাংস তো দূরের কথা, নিত্য প্রয়োজনীয় চাল-ডাল কিনতেও হিমশিম খেতে হয়।

শহরের সিটি বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী শামছুল হক বলেন, খামারে সোনালী মুরগির আমদানি অনেকটা বেড়েছে তাই দাম কিছুটা কম। অন্যান্য মুরগির আমদানি বাড়লে দামও কমবে।

স্টেশন বাজারে চাল কিনতে আসা ফুটপাতের দোকানি মইনুল ইসলাম বলেন, দোকান বন্ধ থাকলে আয় কমে যায়। পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পাড়ি দিতে হয়। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমাদের নিম্নবিত্ত মানুষদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। দোকান বন্ধ থাকলে তো আর পেট মানবে না।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেল ১৩০ ও কোম্পানিভেদে বোতলজাত সয়াবিন ১৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ৩০ ও প্যাকেট ৩৫ টাকা, ময়দা ৪০-৪৫, মসুর ডাল (মোটা) ৬৮-৭০, মসুর ডাল (চিকন) ১০০-১১০ টাকা। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে মসলার দাম। জিরা ২৮৫-২৯০ টাকা ও দারচিনি ২৮০-২৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী প্রান্ত ইসলাম।

বাজারে ফার্মের ডিম প্রতিহালি ২৮, দেশি মুরগির ডিম ৭০, পাকিস্তানি ও হাঁসের ডিম পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

খানিকটা স্বস্তি বিরাজ করছে মাছের বাজারে। কয়েকমাস থেকে মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন মাছ ক্রেতারা। তবে বাজারে ক্রেতা সংখ্যা কম ও বেচাকেনা ভালো নেই বলে অভিযোগ একাধিক মাছ ব্যবসায়ীর।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রুই কেজিপ্রতি (আকারভেদে) ২২০-২৮০, পাবদা ২৪০-২৫০, শিং (আকারভেদে) ২০০-২৮০, পাঙাস ১২০-১৩০, ইলিশ (আকারভেদে) ৬০০-৯৫০, চিংড়ি (আকারভেদে) ৫৬০-৬৫০, দেশি মাগুর ৪৫০-৫০০, তেলাপিয়া ১২০-১৩০, সিলভার কার্প ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বাজারে কার্টিনাল আলু ১২, শিল আলু ২০, ঝাউ আলু ১৮-২০, পেঁয়াজ ৩২-৩৫, আদা ৬০-৮০, রসুন ৬০-১১০, কাঁচা মরিচ ১৫-২০, বেগুন ১৬-২০, শিম ২০, লাউ ১৫-২০, মিষ্টি কুমড়া ১৬, করলা ৪০, পটল ৪০, ঢেঁড়স ৬০, কাঁচা কলা প্রতিহালি ২৫, সজনে ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহীন বলেন, রোজায় চাহিদা অনুযায়ী কিছু সবজির দাম বেড়েছে, কিন্তু খুব বেশি নয়। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় সজনে, করলাসহ কিছু সবজির দাম কমেছে।

এদিকে রোজার আর মাত্র চার দিন বাকি। খেজুরের সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়ে রোজায়। আর চাহিদার চাপ বুঝে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হয়েছিল ১২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। আর এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, বাজারের সবচেয়ে কম দামের জাহেদি খেজুর কিছুদিন আগেও ১২০-১৩০ টাকা ছিল। এখন তার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। এছাড়া ধাবাস খেজুরও ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকায়। নাগাল খেজুরসহ বিভিন্ন মানের আম্বার, আজোয়া, মরিয়ম খেজুরও আগের চেয়ে দাম বেড়ে ৫৫০-এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারের খেজুর বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। বছরজুড়ে খেজুর বিক্রি কম হলেও রোজায় কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হয়। রোজার আগে চাহিদা বাড়ার কারণে দামও কিছুটা বেড়েছে।

জীতু কবির/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]