স্কুলছাত্রের নিপুণ হাতে গড়ে উঠল ‘পদ্মা সেতু’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ০৯:৩১ এএম, ১১ এপ্রিল ২০২১

ধীরে ধীরে প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠছে দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র নসাৎ করে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে চলেছে বর্তমান সরকার। দীর্ঘতম এই সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য্য দেখতে প্রতিদিনই জাজিরা পয়েন্টে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। সরকারের মেগা এই প্রজেক্টের কাজ চলমান থাকলেও এক স্কুলছাত্র মাটি ও সিমেন্ট দিয়ে বানিয়েছে ডামি ‘পদ্মা সেতু’। নিপুণ হাতে গড়া হুবহু পদ্মা সেতুর মতো ডামি সেতুটি দেখতে প্রতিদিনই ঢাকার ধামরাইয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে ভিড় করছেন অনেকেই।

উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার বানানো পদ্মা সেতু দেখতে আসছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। নিজ বাড়ির পাশেই বাঁশ ও মাটির স্ট্রাকচারের ওপর সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে বানানো হয়েছে পদ্মা সেতু। মূল পদ্মা সেতুর মতোই হুবহু পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ডামি এই পদ্মা সেতুটি।

padma3

রেললাইন থেকে শুরু করে মূল সেতু, ল্যাম্প পোস্টসহ সবই রয়েছে এই ডামি সেতুতে। রাতে ল্যাম্পপোস্টগুলোতে আলো জ্বললে আরও সুন্দর হয়ে উঠছে সোহাগের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। প্রথম অবস্থায় তার কাজে সকলেই হাসি-তামাশা করলেও এখন পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছে সোহাগ।

সোহাগ আহমেদ জানায়, ‘প্রথম যেদিন পদ্মা সেতুর স্প্যান বসে, ওদিন থাইকাই আমি অনুপ্রাণিত হই যে আমি ওইরকম একটা সেতু করতে চাই। প্রথম ২০১৮ সালে আমি সেতুর কাজ শুরু করি। কিন্তু ২০১৯-২০২০ সালেও কাজ সমাপ্ত করতে পারিনি। কারণ তখন আমি মাটি দিয়ে বানাইছিলাম। মাটির কারণে ওইটা ভাইঙ্গা গেছে। আবার বৃষ্টির পানিতেও গইলা গেছিল। তবে এ বছরও আমি মাটি দিয়াই বানাইছি। কিন্তু মাটির ওপর হালকা করে সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করে দিছি। যাতে অল্প বৃষ্টিতে এই সেতুর মাটি গলে না যায়।

সোহাগ জানায়, সে দশম শ্রেণিতে বাণিজ্য বিভাগে পড়ালেখা করছে। বাড়ির কাজের পাশাপাশি এই পদ্মা সেতু তৈরি করছে সে। এতদিন পর এটা বানাতে পেরে সে খুব খুশি। আগে তার বাবা-মা এটাতে বাধা দিয়েছে। কিন্তু বাড়ির কাজের ফাঁকে ফাঁকে সে এটি করেছে। এতে আশপাশের লোকজনও অনেক হাসি-মসকরা করেছে।

‘অনেক লোক আসতেছে দেখতে। যেই দেখতেছে সেই প্রশংসা করতাছে। এই জিনিসটা বানাইয়া আমি অনেক আনন্দিত। আমার এলাকাবাসী ও অনেক দূরের লোকজন এইটা দেখতে আসতাছে। আমি খুশি এই জন্য যে, আমার নিজের প্রতিভাটা আমি মানুষকে দেখাতে পারতেছি।’

padma3

সুতিপাড়া ইউনিয়নের গার্মেন্ট শ্রমিক আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে শুনলাম যে পদ্মা সেতু তৈরি করছে একটা ছেলে। শুনে খবর পেয়ে আজকে বিকেলে আমি দেখতে আসলাম। ব্রিজটা দেখে অনেক ভালো লাগলো। আশা করি, আল্লাহর রহমতে সে আরও ভালো কিছু করতে পারবে।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের হাতকোড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মৃধাও এসেছেন স্কুলছাত্র সোহাগের বানানো পদ্মা সেতু একনজর দেখতে।

তিনি বলেন, ‘লোকমুখে আমার খবর পাইলাম যে, এখানে সুতিপাড়া এলাকায় একটা পদ্মা সেতু তৈরি করছে একটা ছেলে। প্রথমে ভাবছিলাম, কী না কী পদ্মা সেতু তৈরি করছে, মনে একটা সন্দেহ ছিল। সেটা দূর করার জন্য চলে আসলাম। কিন্তু এসে দেখি যে না, আসল যে পদ্মা সেতু আছে এবং এটা সেম। আমি তার কাজে খুব সন্তুষ্ট। সে একটা ছোট ছেলে। এই রকম একটা কাজ এই ছোট ছেলের মাথায় আসছে আমার অবাক লাগছে। দোয়া করি ভবিষ্যতে সে আরও সামনে এগিয়ে যাক।’

jagonews24

সোহাগের বাবা সুলতান উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকার যে পদ্মা সেতু তৈয়ার করতেছে ওইডাতো সবাই যাইয়া দেখতে পারে না। আমার ছেলে মাটি দিয়া যাই করছে সব সময় লোকজন আসে। দেখে ভালো বলতাছে। আমার খুব আনন্দ লাগতাছে। আমি অনেক দিন নিষেধ করছি। কয়েক বচ্ছর (বছর) চেষ্টা করছে উ (সোহাগ), পারে নাই। এই বচ্ছর (বছর) আইসা করবার পারছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিতো চাই, ও যে রকম কাজ করছে এহন ভবিষ্যতেও এই রকম ভালো কাজ করুক। কিন্তু হ্যার জন্য সরকারের সাহায্য লাগব।’

সুতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, আমি নিজেও গিয়ে মিনি পদ্মা সেতু দেখে এসেছি। অনেক সুন্দর হয়েছে কাজটা। ছেলেটা আসলে অনেক মেধাবী। সে আমাদের এলাকাকে সবার কাছে পরিচিত করেছে। প্রতিদিনই লোকজন সেতুটি দেখতে আসছে। আমরা এলাকাবাসী ওকে নিয়ে গর্বিত। ভবিষ্যতে সোহাগ ভালো কিছু করলে আমার কাছে যে কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাবে।

আল-মামুন/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]