বিধবা ভাতা দেয়ার নামে ভিক্ষুকের টাকা আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় বিধবা ভাতা দেয়ার কথা বলে তহমিনা বেগম (৬৫) নামে এক ভিক্ষুকের ২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা আব্দুর রব খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিচার দাবি করে তাহমিনা বেগম কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী তাহমিনা বেগম উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের কাঠেরচর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নান হাওলাদারের স্ত্রী। অভিযুক্ত আব্দুর রব খান উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের চরকমিশনার (কাঠেরচর) গ্রামের বাসিন্দা এবং কাজিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি।

তহমিনা বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় তিনবছর আগে তার স্বামী মারা যান। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান নেই। আপনজন বলতেও তার কেউ নেই। সহায় সম্বল বলতে আছে একটি ছাপরা ঘর। বয়সের কারণে ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না তিনি। তাই নিরুপায় হয়ে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিতে হয়েছে তাকে।

তিনি আরও জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে বিধবা ভাতা পাওয়ার আশায় এলাকার মেম্বার ও নেতাদের পেছনে অনেক ঘুরেছেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। প্রায় বছরখানেক আগে কাজিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাতীয় পার্টির সভাপাতি আব্দুর রব খান তার বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে তার কাছে তখন তিন হাজার টাকা না থাকায় সময় চেয়ে নেন। গত ঈদ-উল আযহার দিন বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে ঘুরে তিনি চার কেজি গরুর মাংস পান। ওই মাংস বিক্রি করে আব্দুর রব খানকে ২ হাজার টাকা দেন এবং বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। টাকা হাতে পেয়ে আব্দুর রব খান তাকে দুই মাসের মধ্যে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

নিঃসন্তান তহমিনা বেগম জানান, টাকা নেয়ার ১০ মাস অতিবাহিত হলেও রব খান তাকে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেননি। কিছুদিন আগে তিনি টাকা ফেরত চাইলে রব খান তাকে গালিগালাজ করেন এবং টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি বিচার দিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে গেলে বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হয়ে যায়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে আব্দুর রব খানের মোবাইল ফোনে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার কল করেও বন্ধ পাওয়া যায়।

কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চ মাসে বিধবা ও বয়স্ক ভাতা দেয়ার জন্য ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডে মাইকিং করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু মনে হচ্ছে তাহমিনা বেগম প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। প্রতারককে টাকা দেয়ার কারণে বিধবা ভাতার জন্য তিনি অনলাইনে আবেদন করেননি। সম্প্রতি বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তাই তহমিনা বেগমকে বিধবা ভাতায় তালিকাভুক্তির জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শুভ্রা দাস জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। টাকা নেয়ার প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তাহমিনা বেগম যদি বিধবা ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত হন, তাকে বিধবা ভাতায় তালিকাভুক্তি করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইফ আমীন/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]