একটি রাস্তায় বাঘার বিলের কয়েক প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ২৯ মে ২০২১

বাঘার বিল। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ও বাটাজোর ইউনিয়নের বড় অংশ জুড়ে বিস্তৃত বিলটিতে শতাধিক পরিবারের বসবাস। প্রায় দুইশ বছর আগে এ বিলে জনবসতি গড়ে উঠলেও যাতায়াতের কোনো রাস্তা ছিল না। শুকনো মৌসুমে জমির আইল দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্ষাকালে দুর্ভোগের শিকার হতেন এ বিলের বাসিন্দারা।

একটি সড়ক এ বিলের বাসিন্দাদের স্বপ্ন। অবশেষে তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিলের মধ্যে দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মাটির রাস্তা। রাস্তাটি নির্মাণের ফলে দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন বিলে বসবাস করা একাধিক বাসিন্দা।

বাঘার গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হরলাল রায় জানান, দুইশ’ বছর আগে তাদের পূর্ব পুরুষরা বাঘার বিলে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। এখন সেখানে শতাধিক পরিবারের বসবাস। শুকনো মৌসুমে জমির আইল দিয়ে যাতায়াত করতে হতো আমাদের। আর বর্ষাকালে পুরো বিল পানিতে ভরে যায়। আমাদের থাকার জায়গাটি দেখতে দ্বীপের মতো মনে হয়। তখন নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের বিল পারাপার হতো। আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেত।

jagonews24

মানিক লাল বেপারী নামে বাঘার গ্রামের আরেক ব্যক্তি জানান, বিলের দুর্গম এলাকায় বসবাস করার কারণে এখানকার ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে। আমাদের এখানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। হাট-বাজার নেই। স্কুল-কলেজ সব বিলের উল্টো দিকে। দুর্গম হওয়ায় আমাদের মেয়েদের ভাল জায়গায় বিয়ে হতো না। এক কথায় আমরা সব দিক দিয়ে পিছেয়ে ছিলাম।

কলেজ ছাত্রী মৌমিতা বেপারী জানান, কলেজে যেতে অনেক কষ্ট হয়। জমির মধ্যে দিয়ে হাটতে গিয়ে স্যান্ডেল ছিঁড়ে যেত। সেটি হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতাম। বর্ষাকালে নৌকায় করে দেড় কিলোমিটার পথ যেতে হতো। ভয়ে তখন বুক ধড়ফড় করতো। বৃষ্টি শুরু হলে ভেজা ছাড়া উপায় ছিল না।

jagonews24

হরলাল রায় ও মানিক লাল বেপারী জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বিলের মধ্যে দেড় কিলোমিটার রাস্তার। অবশেষে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক সহায়তা ও আমাদের স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। মাটির রাস্তাটি মূলসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, তার ইউনিয়নের বাঘার গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী বাটাজোর ইউনিয়নের জয়শুরকাঠি গ্রামের শতাধিক পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটির রাস্তার শেষ হয়েছে। রাস্তাটি নির্মাণের ফলে সুবিধাভোগী দুই গ্রামের শতাধিক পরিবারের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে।

সাইফ আমীন/আরএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]