স্বামীসহ ২ এসআইয়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা নারী এসআইয়ের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ১০ জুন ২০২১ | আপডেট: ১২:৩৬ পিএম, ১০ জুন ২০২১

স্বামীসহ দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) রাজশাহী মহানগর শাখায় কর্মরত এক নারী এসআইয়ের।

বুধবার (৯ জুন) রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনালে তিনি মামলাটি করেন। আদালতে বাদীর পক্ষে রাজশাহী জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মোখলেসুর রহমান স্বপন মামলার নথিপত্র উপস্থাপন করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- স্বামী এসআই ওবাইদুল কবির সুমন (৩৫) ও আরেক নারী এসআই পলি আক্তার (৩০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসআই ওবাইদুল কবির ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটে কর্মরত। অন্যদিকে, এসআই পলি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত।

আইনজীবী মোখলেসুর রহমান স্বপন বলেন, ‘বুধবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়েছে। রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান মামলার আবেদন গ্রহণ করেছেন। তিনি আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।’

মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে এসআই ওবাইদুলের সঙ্গে নারী এসআইয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু এসআই ওবাইদুল এসআই পলি আক্তারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান। তাই তিনি নিজের স্ত্রীকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে ওই নারী এসআই ঢাকা থেকে বদলি হয়ে রাজশাহী চলে আসেন।

ওই মামলায় আরও উল্লেখ রয়েছে, ভুক্তভোগী নারী এসআইকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তার নামে ভুয়া অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নজনকে পাঠিয়েছেন এসআই ওবাইদুল কবির (ভুক্তভোগীর স্বামী)। এসআই ওবাইদুল কবির ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোর মাধ্যমে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছেন। এতে ভুক্তভোগী নারী এসআই ও তার পরিবারের সদস্যরা মারাত্মকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। এ কারণে ভুক্তভোগী এসআই স্বামীসহ দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ভুক্তভোগী (এসআই) ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেন, ‘৮ মাস হয়েছে জানতে পেরেছি এসআই পলির সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্কের কথা। এরপর থেকে তাকে জেরা করলে সে (স্বামী) আমাকে যৌতুকের অহেতুক অভিযোগে হয়রানি করতে থাকে। এমনকি আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মূলত, নিজের কুকর্ম ঢাকার জন্য যৌতুকের নাটক করে এবং আমাকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ দেয়। চাকরি ছাড়তে আপত্তি জানালে আমাকে মারধর করে মাস পাঁচেক আগে বাসা থেকে বের করে দেয়। চাকরি না ছাড়লে আমাকে ডিভোর্স দেবে বলে জানায়।’

তিনি আর বলেন, ‘আমি দীর্ঘ তিন মাস আমার আত্মীয়ের বাসায় থাকি এবং পরে বদলি নিয়ে রাজশাহীতে আসি। রাজশাহীতে আসার পর আমার বড়-বোন ও দুলাভাইয়ের বাসায় উঠি। এখানেও সে (স্বামী), তার বাবা ও ভাই এসে আমাকে মারধর করে। পরে রাজপাড়া থানায় আমার মা (আম্বিয়া বেগম) তার নামে একটি মামলা করেন। এরপর থেকে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। তার কথা না শোনায় সে তার সঙ্গে আমার অন্তরঙ্গ ছবিগুলো এডিট করে আমার পিতৃতুল্য দুলাভাইয়ের নামে পরকীয়ার অভিযোগ এনে নিজ ফেসবুক আইডি ও ফেক ফেসবুক আইডিতে প্রচার করে। সে আমাকে প্রতিনিয়তই বিভিন্নভাবে কুরুচিপূর্ণ কথার মাধ্যমে আত্মহত্যার প্ররোচনাও দিয়েছে, যাতে আমি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করি।’

নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আদালত থেকে মামলার কাগজাদি হাতে পেয়েছি। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলার নথিপত্র ও তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

ফয়সাল আহমেদ/এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]