শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনকারী সেই মা-ছেলে কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ১১ জুন ২০২১

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রিফাত (৯) নামের এক শিশুকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার মা ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রসুন কান্তি দাস বলেন, গৌরীপুরের ওই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার মা-ছেলেকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো মা ছেলে হলেন- গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাতকুড়া গ্রামের মৃত বারেকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তার ছেলে হিমেল।

গত ৪ জুন (শুক্রবার) দুপুরে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ গ্রামে (গুচ্ছগ্রাম) শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
পরে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) মা ছেলেকে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মা ছেলেকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

নির্যাতনের শিকার রিফাতের বাবা সুরুজ মিয়া বলেন, গত মাসের শেষ সপ্তাহে ফাতেমা বেগমের ভাইয়ের স্ত্রী রিফাতকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গাছ থেকে আম পেড়ে দিতে বলেন। রিফাত আম পাড়ার জন্য গাছে উঠলে ফাতেমা ও তার ছেলে হিমেল রিফাতকে গাছ থেকে নামান। পরে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এরপর থেকে রিফাত সপ্তাহখানেক জ্বরে ভোগে।

তিনি আরও বলেন, জ্বর কিছুটা সেরে উঠলে গত শুক্রবার আমি বাড়িতে না থাকায় ফাতেমার ছেলে হিমেল রিফাতকে বাড়ি থেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে। পরে আমি বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে তাদের বাড়িতে গিয়ে রশি খুলে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালে তারা বিচারের আশ্বাস দেন।

নির্যাতনের শিকার রিফাত রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় রামগোপালপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

মঞ্জুরুল ইসলম/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]