১০ মাত্রার ভূমিকম্পেও যেন ক্ষতি না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৪:১৫ এএম, ১৮ জুন ২০২১

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, ‘৬ আর ৭ মাত্রার ভূমিকম্প নয় ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও যেন দেশের কোনো মানুষ না মরে, কোনো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এটা করতে হলে আমাদের ভূমিকম্প সহনীয় ভবনের ডিজাইন করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) সিলেটে ভূমিকম্প ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসিনের সভাপতিত্বে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সিলেটের জনপ্রতিনিধিরা, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা, বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবদসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

জাপান এক সময় ভূমিকম্পের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এখন এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তাদের দেশে এখন ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও একটি ঘরও ভেঙে পড়বে না। ভূমিকম্প সহনীয় ভবনের ডিজাইন করে জাপান একটি স্প্রিং জাতীয় প্রযুক্তির ব্যবহার করে যার কারণে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ভবন দুলবে, কিন্তু ভাঙবে না। আর এ কারণে জাপানিরা নিজেদের ভূমিকম্প সহনশীল এবং নিরাপদ দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।’

ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘আমরা জাপানের সেই অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা কাজে লাগাতে চাই। জাপান আমাদের তাদের প্রযুক্তিগত ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে জাপানের সাথে আমার কথা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভূমিকম্প হচ্ছে এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার পূর্ভাবাস দেয়ার উপায় এখনো বের হয়নি। ভূমিকম্প ঠেকানোরও কোনো উপায় নেই। তবে ভূমিকম্পের কারণে ক্ষয়ক্ষতি আমরা চাইলেই কমিয়ে আনতে পারি। অ্যাপসের মাধ্যমে ভূমিকম্পের পরপরই সব নাগরিকের মুঠোফোনে এর সতর্কতা ও কত মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে তা জানিয়ে অটোমেটিক্যালি মেসেজ চলে যাবে। সেই প্রযুক্তি নিয়ে আমরা কাজ করছি। খুব শিগগিরই এটি করা হবে।’

গত ২৯ এবং ৩০ মে পাঁচ দফা এবং ৭ জুন আবারও দুই দফা ভূমিকম্প হয় সিলেটে। এতে আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা সিলেট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভূমিকম্প আতঙ্ক দেখা দেয়। দফায় দফায় এই ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এই সভার আয়োজন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এতে সহযোগিতা করে সিলেট জেলা প্রশাসন ও জাইকা।

আর ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, সিলেটে ঘনঘন ভূমিকম্পের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই মানব দরদি একজন উদার মনের মানুষ। ভূমিকম্প, দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। আজ থেকে চার দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বললেন, সিলেটে দু দিনে পরপর সাতবার ভূমিকম্প হয়েছে। সিলেটের মানুষ চরম আতঙ্কে আছেন, আর তোমরা এখানে সভা-সেমিনার করছো। এটা করলেই হবে না তোমাকে সিলেট যেতে হবে। ওখানকার লোকজনকে সভা-সেমিনার করে অভয় দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশ পেয়েই আজ এখানে এসেছি। মানুষের কল্যাণে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাবই দিই না কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত কার্যকর করেন। ভূমিকম্প বা কোনো দুর্যোগের কারণে বহুতল ভবন বা কোনো কিছুর ক্ষতি হলে যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করা যায় সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিলেটে ৩৪ ধরনের যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে জাপানি প্রতিষ্ঠান জাইকা আমাদের সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে আমরা ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অনেক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। ফায়ার সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীকে অনেক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে। ফলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে আমাদের সতর্ক হতে হবে।’

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন, আবহাওয়া অফিসের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান, সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের কর্মকর্তা লে. কর্নেল মিজান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, বুয়েটের অধ্যাপক তাহমিন এন হোসেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম, আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শারমিন রেজা চৌধুরী এবং জাইকার প্রতিনিধি নাওকি মাথসুমুরা প্রমুখ।

ছামির মাহমুদ/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]