সফরসঙ্গীরা ফোন বন্ধ করে ত্ব-হার কাছে রাখেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ১৮ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৬:২৫ পিএম, ১৮ জুন ২০২১

<> সফরসঙ্গীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই আত্মগোপনে যান ত্ব-হা
<> ত্ব-হার ব্যক্তিগত সমস্যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে : ডিবি
<> রাতে রংপুরের কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হবে ত্ব-হাকে
<> প্রয়োজনে ত্ব-হার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেছেন, ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান ও তার সফরসঙ্গীরা ১০ জুন রাতে ঢাকার গাবতলী থেকে রংপুরের পথে রওনা হন। এরপর গাইবান্ধা ত্রিমোহনীতে তাদের পূর্ব পরিচিত বন্ধু সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে তার সঙ্গে আবদুল মুহিত, ফিরোজ আলম ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে সবাই তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে ত্ব-হার কাছে রেখে দেন।

মূলত পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণেই তারা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, রংপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় ত্ব-হা তার সফরসঙ্গীদেরকে জানান যে, তিনি ব্যক্তিগত সমস্যায় ভুগছেন। এরপর তাদের সঙ্গে কথা বলে পরামর্শ করে আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাদের এই আত্মগোপনে থাকার দাবি রাষ্ট্র বা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলার জন্য কোনো ষড়যন্ত্র কি-না, তাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবু ত্ব-হাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

ত্ব-হার উদ্ধৃতি দিয়ে উপপুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ত্ব-হা আমাদেরকে তার ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। আমরা তাকে রাতে রংপুর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করব। থানা কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে তাকে আদালতে নেয়া প্রয়োজন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলোতে মুখে আনতে চাই না। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে তা জানানো হয়।

শুক্রবার (১৮ জুন) রংপুর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন।

গত ১০ জুন দিবাগত রাত থেকে কোনো খোঁজ মিলছিল না আবু ত্বহা, তার দুই সঙ্গী আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিনের। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে ওই তিনজনসহ আবু ত্ব-হা রংপুর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকার পথে রওনা দেন। রাতে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা হলে তিনি সাভারে যাচ্ছেন বলে তার মাকে জানান।

এরপর রাত ২টা ৩৬ মিনিটে প্রথম স্ত্রী হাবিবা নূরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় আদনানের। তিনি সাভার যাচ্ছেন বলেই জানান স্ত্রীকে। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শেষে তাকে না পেয়ে ১১ জুন বিকেলে রংপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম। তার খোঁজ চেয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনও করেন দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারা।

তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে শুক্রবার ত্ব-হার খোঁজ মেলে। বিপ্লব মিয়া নামে এক প্রতিবেশী জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবু ত্ব-হাকে তার শ্বশুর আজহারুল ইসলাম মন্ডলের বাড়িতে ঢুকতে দেখেন তিনি। পরে তাকে রংপুর নগরের আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ার ওই বাড়ি থেকে নিয়ে যায় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, মা ও ভাইয়ের জিডির সূত্রে আমরা (ত্ব-হার) অনুসন্ধান করতে থাকি। আজকে আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি ত্ব-হা তার (রংপুর নগরের) চারতলার মসজিদে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সেই সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে নিয়ে আসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমরা অপর সঙ্গীদেরও সন্ধান পাই।

জিতু কবীর/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]