খাতার মলাটের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উদঘাটন

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ১৮ জুন ২০২১

আশুলিয়ায় তিন মাস পর কফিল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পলাতক রিতা বেগম নামের প্রতিবেশী এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানা থেকে গ্রেফতার নারীকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে ভোরে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার রিপনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার রিতা বেগম (২৯) নওগাঁ জেলা সদরের চকরামচন্দ্র মহল্লার খাইরুল ইসলামের মেয়ে। নিহত কফিল উদ্দিন (৬০) জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার পাতুসি গ্রামের মৃত কাজী মুনশী শেখের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু সড়কের ডাক্তার সাফকাথ হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ জানান, গত ২২ মার্চ আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু রোডের ডা. সাফকাত হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার কফিল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে ঘটনার পর থেকে প্রতিবেশী এক নারী পালিয়ে যান। সেই ঘরে তল্লাশি করে শুধু একটি খাতার মলাট পাওয়া যায়। সেই মলাটে শিশুর নাম ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই দীর্ঘ তিন মাস পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ওই নারীর বরাত দিয়ে সুদীপ কুমার গোপ বলেন, কফিল উদ্দিন সাফকাত হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। আর ওই বাসায় রিতা বেগম ভাড়া থাকতেন। সেখানে ভাড়া থাকায় কফিল উদ্দিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হয় রিতার। এই সুবাদে কফিলের তরকারি, মাছ ইত্যাদি কেটে দিয়ে সহযোগিতা করতেন রিতা।

ঘটনার দিন রাতে কফিলের মাছ কেটে তার ঘরে দিতে গেলে কফিল কুপ্রস্তাব দেন রিতাকে। রাজি না হলে জোর করেন। এসময় রিতা তার গলা চেপে ধরলে কপিল মেঝেতে পড়ে মারা যান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন কফিল উদ্দিন। ঘটনা আড়াল করতে কফিল উদ্দিনের হাতে ইনহেলার দিয়ে সকালে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যান রিতা। সঙ্গে ছোটবোন ও শিশুসহ সব প্রমাণ উধাও করেই চম্পট দেন তিনি। পরে একটি খাতার মলাটের সূত্র ধরে ধরা পড়লেন রিতা।

এ ঘটনার তিন মাস আগে অপমৃত্যুর মামলা হলেও শুক্রবার সকালে নিহতের স্ত্রী হানুফা বেগম আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে রিতা বেগমকে আদালতে পাঠানো হয়।

আল-মামুন/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]