রংপুরে ফের বেড়েছে মুরগির দাম, চাল-তেল-সবজি অপরিবর্তিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ১৯ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৭:০০ পিএম, ১৯ জুন ২০২১

রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বেড়েছে মুরগির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে বিভিন্ন প্রকার সবজি, তেল ও চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম।

শনিবার (১৯ জুন) সরেজমিনে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যে ব্রয়লার মুরগি খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল সেই ব্রয়লার এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। এছাড়া পাকিস্তানি মুরগি ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ থেকে ২১০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ২২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার বিষয়ে মুলাটোল আমতলা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আল-আমিন জাগো নিউজকে বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। ঈদে মুরগির চাহিদা কমে যায়। এ কারণে খামারিরা লোকসানের ভয়ে খামারে বেশি করে মুরগির বাচ্চা তুলছেন না। ফলে মুরগির আমদানি কমে গেছে। এ কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানান আল-আমিন।

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার চাল। খুচরা বাজারে মিনিকেট চাল ৬২ থেকে ৬৪ টাকায়, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬২ টাকায়, বিআর২৮ চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়, কাটারিভোগ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় এবং চিনিগুড়া ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারে চাল কিনতে আসা আবু বক্কর বলেন, প্রতি মাসে চালের দাম বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। প্রতি বস্তায় এক থেকে দেড়শ টাকা বেশি। উপার্জন কম কিন্তু পণ্যের দাম চড়া। চাল-তেল সংসারের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই দাম কম হলে খুবই উপকার হতো।

নতুন করে দাম না বাড়লেও সুখবর নেই তেলের বাজারে। গত সপ্তাহের মতো খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫০ থেকে ১৫৩ টাকায়, দুই লিটার ৩০০ থেকে ৩০২ টাকায়, তিন লিটার ৪৫০ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৭২৫ থেকে ৭২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা দরে।

jagonews24

খুচরা ও পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বিষয়ে সিটি বাজারের তেল ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের ব্যারেলপ্রতি দাম বেড়েছে। এ কারণে আবারও খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি পনেরো টাকা বেড়েছে। মূলত করোনার কারণে বাজারে কমেছে শ্রমিক, একই সঙ্গে তেলের উৎপাদনও অনেকে কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম চড়া থাকায় তেলের দাম বেড়েই চলেছে।

এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত আছে ডিমের দাম। প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা, হাঁসের ডিম ৪৪ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৪০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ টাকা বলে জানান সিটি বাজারের ডিম ব্যবসায়ী জাদু মিয়া।

এদিকে আটা ৩০ থেকে ৩৮ টাকা, ময়দা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, চিনি ৭০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ৭০ থেকে ৭২ টাকা, যা গত সপ্তাহের দরেই রয়েছে বলে জানান স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী হালিম মিয়া।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চিংড়ি মাছের দাম। আকারভেদে চিংড়ি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, রুই মাছ কেজিপ্রতি (আকারভেদে) ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৪৫০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, সরপুঁটি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, ইলিশ প্রতি কেজি (আকারভেদে) ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা, বোয়াল ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, কাতল ২৫০ টাকা, পাবদা (আকারভেদে) ২৭০ থেকে ৪৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা, সিলভার কাপ ১০০ থেকে ১৩০ টাকা এবং দেশি কৈ ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান মাছ ব্যবসায়ীরা।

এদিকে সবজির বাজার গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বরবটি প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ২৫-৩০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, পটল ২৫-৩০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, গাজর ১১০-১২০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, পানি কুমড়া ২৫-৩০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ টাকা, কার্টিনাল আলু ১৮-২০ টাকা, শিলআলু ২৫ টাকা, সাদা আলু ২৪ টাকা, কাঁচামরিচ ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও কাঁচকলা প্রতি হালি ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩৫-৪০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ১০-১২ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের শাক আটিপ্রতি ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আদা প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা, রসুন ৬০-৭০ টাকা, শুকনো মরিচ ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জিতু কবীর/এআরএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]