আদালতে আজব স্বীকারোক্তি: স্ত্রী-দুই সন্তানকে মাছ ভেবে কেটে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৪:৫১ এএম, ২৫ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৫:০৩ এএম, ২৫ জুন ২০২১

সিলেটের গোয়াইনঘাটে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আলোচিত এই ট্রিপল হত্যা মামলার একমাত্র আসামি হিফজুর রহমান (৩৮)।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকেলে সিলেটের বিচারিক হাকিম (গোয়াইনঘাট) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন তিনি।

হিফজুর সীমান্ত উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিচারিক হাকিম আলমগীর হোসেনের আদালতে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে হিফজুর বলেন, ‌১৫ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘুমানোর পর স্বপ্নে দেখেন ঘরের ভেতর অনেক মাছ ঢুকেছে। পরে তিনি স্বপ্নের মধ্যে সেই মাছ দা (বটি) দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করেন। পরে স্বপ্নের ঘোর কাটার পর তিনি বুঝতে পারেন তিনি স্বপ্ন দেখে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে দা দিয়ে কেটে হত্যা করেছেন। স্বপ্নের মধ্যে তার নিজের শরীরেও দা দিয়ে আঘাত করেন হিফজুর। এ কথা জানিয়ে আদালতে হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন তিনি।

জানা গেছে, গত ১৬ জুন হিফজুরের শয়নকক্ষ থেকে স্ত্রী আলেমা বেগম, আট বছরের ছেলে মিজানুর রহমান ও তিন বছরের মেয়ে আনিশার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে সময় লাশের ওপর অনেকটা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পরেছিলেন তিনি। নিহতদের গলা ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ ছিল। এর মধ্যে স্ত্রী আলিমার শরীরেই ছিল নয়টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত। ওই দিন সকালে আহতাবস্থায় হিফজুরকেও উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।

হিফজুর দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) দিলীপ কান্তি নাথ। জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

হিফজুরকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হলেও শুরু থেকে তাকে সন্দেহ করে পুলিশ। এই ঘটনায় হালিমার বাবা আইয়ুব আলী অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের আলামত ও হিফজুরের উল্টাপাল্টা বক্তব্যের জন্য তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরদারিতে রাখে পুলিশ।

গত ১৯ জুন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিফজুরকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ বলে ছাড়পত্র দেন। এরপর আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক দিলীপ কান্তি নাথ। এই আবেদনের শুনানি শেষে গোয়াইনঘাটের বিচারিক আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষের একদিন আগেই হিফজুর বৃহস্পতিবার এই স্বীকারোক্তি দেন।

ছামির মাহমুদ/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]