রাজশাহীতে বিধি ভেঙে বিয়ের অনুষ্ঠান, উদাসীন প্রশাসন!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৪:৩২ এএম, ৩১ জুলাই ২০২১

দেশব্যাপী চলছে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউন। এর মধ্যেই রাজশাহীতে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শতাধিক লোকের সমাগমে একটি বিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলেও তারা ছিলেন উদাসীন।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী উপশহর ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮৮ নম্বরের রাজশাহী ইন রেসিডেন্সিয়াল লি. নামে একটি আবাসিক হোটেলে এই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

মো. আহসান কবীর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকেই আবাসিক হোটেলটিতে চলছিল বিয়ের রান্না-বান্নার আয়োজন। কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করেও একে একে আসছিলেন বিয়ে বাড়ির লোকজন। স্থানীয়দের বারণ সত্ত্বেও হোটেলটির মালিক আবু ইউসুফ মাসুদ নিজে গেটে উপস্থিত থেকে অতি সর্তকতার সাথে বিয়ে বাড়ির লোকেদের হোটেলে প্রবেশ করান। প্রইভেটকার, মাইক্রো, মোটরসাইকেল ছাড়াও অটোরিকশা যোগেও অতিথিদের আসতে দেখা গেছে। প্রায় শতাধিক লোকের আয়োজন চলছিল হোটেলটিতে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে জানানো হয়েছিল উপশহরে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শাহিনুরকে। তারপরও তিনি কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। উল্টো ভেতর থেকে ঘুরে এসে তিনি সাংবাদিকসহ স্থানীয়দের জানান, বিয়ে নয়, কয়েকজন বসে এমনি গল্প ও খাওয়া-দাওয়া করছেন।’

এদিকে বিধিনিষেধ অমান্য করে বিয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দৈনিক সময়ের কাগজ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক মো. ফয়সাল হোসেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করেই শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে রাজশাহী ইন রেসিডেন্সিয়াল লি. হোটেলে যাই। কিন্তু হোটেলের গেটে অবস্থানরত মালিক আমিসহ উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিককে পুলিশের উপস্থিতিতেই তথ্য, ছবি ও ভিডিও নিতে আপত্তি করেন। এমনকি গালিগালাজ করে চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হবে বলেও হুমকি প্রদান করেন। এতো কিছুর পরও উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহিনুর কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

jagonews24

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘এখানে ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে তারা গল্প করছিলেন। বিয়ের কোনো অনুষ্ঠান সেখানে হচ্ছিল না।’

তাছাড়া তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি (বোয়ালিয়া থানা জোন) স্যার আমাকে যা বলতে বলেছে আমি তাই হোটেলের ভেতর থেকে বলে বেড়িয়ে এসেছি।’

পুলিশের বোয়ালিয়া জোনের ডিসি কী বলেছেন জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনাকে সেটা বলা যাবে না।’

এই বিষয়টি জানানো হয়েছিল রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল হককেও। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি দেখেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. আবু আসলাম। আমি ডিসি স্যারসহ এডিএমকে বিষয়টি অবগত করছি। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. আবু আসলাম বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি অবগত করেছিলাম। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো প্রকারের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। তাও আগামীকাল অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ফয়সাল আহমেদ/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]