কর্মস্থলে ফিরতে বরিশাল মহাসড়কে জনস্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে রোববার (১ আগস্ট) থেকে শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় কর্মস্থলে ফিরতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে কর্মজীবী মানুষের ঢল নেমেছে। বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এই মহাসড়ক হয়ে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ছুটছেন।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবং সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হয় কর্মজীবী এসব মানুষদের। বাড়তি ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, ট্রাক, ট্রলি, পিকআপ, টমটম, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বিভিন্ন ছোট বাহনে পথ ভেঙে ভেঙে তারা গন্তব্যে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ মানুষের মুখেই ছিল না মাস্ক। মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব।

শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে লেবুখালী ব্রিজের বাকেরগঞ্জ প্রান্ত থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের নিয়ে বরিশালের দিকে আসার সময় লক্ষ্মীপাশা এলাকায় দুটি ইঞ্জিনচালিত টমটমের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মো. সুমন নামে এক টমটম চালক নিহত হন। আহত হন দুটি টমটমে থাকা অন্তত ১০ জন যাত্রী।

jagonews24

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার যাত্রী বরিশাল মহাসড়ক হয়ে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ছুটছেন। অনেকে পরিবহনের জন্য মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে পোশাক কারখানায় চাকরি করা মানুষের সংখ্যাই বেশি। খালি ট্রাক বা পিকআপ ভ্যান আসলেই তারা হুড়োহুড়ি করে উঠে পড়ছেন।

ভাড়াও গুনতে হয়েছে ৭ থেকে ৮ গুণ বেশি। পরিবহন না পেয়ে কেউ কেউ হেঁটে রওনা দিচ্ছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল মহাসড়কে মানুষ আরও বাড়তে থাকে। পুলিশও বাধ্য হয়ে দুপুর ১টার পর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে চেকপোস্ট তুলে নেয়।

jagonews24

নগরীর কাশিপুর বাজার সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, লকডাউনের আগে তারা বাড়িতে এসেছিলেন। তারা পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। শুক্রবার রাতে অফিস থেকে ফোন দিয়ে কারখানা খোলার কথা জানানো হয়েছে। এ কারণে তাদের এত কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছে। চাকরি বাঁচাতে হলে তো যেতেই হবে।

নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে কথা হয় সাভারে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করা সবুজ হোসেনের সঙ্গে। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান ছিল। তিনি বলেন, ‘ঝালকাঠি থেকে বেলা ১১টার দিকে রওনা দিয়ে তারা ভেঙে ভেঙে ১টার দিকে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছান। এ পর্যন্ত পৌছাতে ৬০০-৭০০ টাকা ভাড়া লেগেছে। কিন্তু নথুল্লাবাদ থেকে তারা কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না।

jagonews24

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কারখানা খুলে দেবে, আগে থেকে বললেই হতো। তাহলে তো হঠাৎ করে এমন কষ্টের মধ্যে পড়তে হতো। টাকা দিয়েও কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না।’

ভোলা থেকে আসা রুহুল আমীন নামে এক পোশাককর্মী বলেন, ‘মালিকপক্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু তারা আমাদের কষ্ট বোঝেন না। আজ হাজার হাজার শ্রমিক বৃষ্টিতে ভিজে হেঁটে ঢাকায় যাচ্ছেন। একদিন দু’দিনের জন্য হলেও উচিত ছিল গণপরিবহন চালু করা।’

অপরদিকে দুপুর ২টার দিকে নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও হাজার হাজার মানুষ পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সময় শাকিল আহমেদ নামে এক যুবক জানান, ঈদের আগে বরিশালে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বাড়ি যান। লকডাউনের কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় বাড়িতেই ছিলেন। রোববার থেকে কারখানা খোলার কথা শুনে কর্মস্থলে ফিরছেন।

jagonews24

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে আবার কিছু পথ মোটরসাইকেল ভাড়া করে বরিশাল রূপাতলী টার্মিনালে পৌঁছেছেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে মাদারীপুরগামী একটি ট্রাকে আরও ১৫-১৭ জনের সঙ্গে মাওয়া ঘাটে যাওয়ার উদ্দেশে উঠে পড়েন। বৃষ্টির কারণে পলিথিন মাথায় দিয়ে ওই ট্রাকে গাদাগাদি করে রওনা হন যাত্রীরা। জনপ্রতি তাদের ভাড়া দিতে হবে ১০০০ টাকা করে।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘লকডাউনের গত কয়দিন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে উপজেলার নতুনহাট এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান-তল্লাশি চালানো হয়। জরুরি পরিবহন ছাড়া কোনো যানবাহন বরিশাল নগরী থেকে প্রবেশ বা বের হতে দেয়া হয়নি। কিন্তু শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার কারণে আজকের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সড়কে হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থলে ছুটছেন। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি পালনে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।’

সাইফ আমীন/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]