এমপি শিমুলের বিরুদ্ধে রাবি শিক্ষকের জিডি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২১

নাটোর-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিরুদ্ধে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

অভিযোগকারী হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার সুজিত কুমার। তিনি রাজশাহী মহানগর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় জিডি করেন ওই শিক্ষক।

রাবি শিক্ষকের ভাষ্য, ‘নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে ফোনে হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া আমাকে ছেঁটে দেবেন বলেও খবর দিচ্ছেন। এক সম্মেলনেও আমাকে ইঙ্গিত করে নানা হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। তাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাজনিত কারণে থানায় জিডি করেছি।’

হুমকির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাটোর জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ’ নামে একটি বই লিখেছিলাম ২০০৭ সালে। তারপর প্রথম এডিশন হয় ২০১০ সালে। ২০২১ সালে দ্বিতীয় এডিশন হয়। প্রথম বই ও বাকি দুই এডিশনেই তার বাবার নাম হাসান আলী রাজাকার হিসেবে এসেছে। আমি ফিল্ডে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তিন বছর কাজ করেছি। স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়েছি রাজাকারের তালিকা। যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণও করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি হাসান আলীকে রাজাকার হিসেবেই পেয়েছি। কিন্তু তিনি যে এমপি শিমুলের বাবা আমি সেটাও জানি না। এমনকি আমি তাকেও চিনতাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বই পড়ে স্থানীয় অন্যান্য এমপি ও রাজনৈতিক নেতা তার সঙ্গে মিটিং করে বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আপত্তি জানায়। তারা এমপি শিমুলকে জানায়, ‘নাটোর জেলার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ’ বইটিতে আপনার বাবা রাজাকার, এটি লেখা রয়েছে। এই বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আমার ওপর বিভিন্নভাবে চড়াও হন। তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আমাকে অর্থ দিয়ে বইটি হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য লেখানো হয়েছে। অথচ বইটি আমি নিজ খরচে লিখেছি ও প্রকাশ করেছি। এতে বাংলা একাডেমি কিংবা কোনো ব্যক্তি আমাকে অর্থায়ন করেননি।’

অধ্যাপক সুজিত কুমার বলেন, ‘নাটোরের এমপি শিমুলের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হুমকি দেয়ার কারণে আমি শুধু জিডি নয়, আমার স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়েছি। এমনকি স্পিকারের কাছে একটি চিঠি ও তার সঙ্গে জিডির কপি এবং বইটিও পাঠিয়েছি। সে কারণে এমপি শিমুল আমার ওপর প্রচণ্ড রাগান্বিত হয়ে এমন আচরণ করছেন।’

তার দাবি, বইটিতে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাবাকে ‘রাজাকার’ বলায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী ও কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তাকে হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে নাটোর-২ আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, ‘রাবি অধ্যাপকের ওই বইটিতে আমার ও আমার বাবা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একদল লোক এই কাজটি অর্থ দিয়ে করিয়েছে। কারণ, প্রথম প্রকাশনায় এমন ভুল তথ্য ছিল না। অথচ ২০১০ সালে আমার নমিনেশনে সমস্যা করার জন্য বাধা প্রদানে এমন ইস্যু তোলা হয়। ২০২১ সালে এসে আবারো একই চক্রান্ত করা হয়। এজন্য আমি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি রাজশাহীর ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করেছি প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য। কেউ যদি হুমকি দিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই সেই ফোনকল ট্র্যাকিং করা যাবে। আমি কিংবা আমার কোনো লোক তাকে হুমকি দেইনি। কেউ তাকে হুমকি দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হোক, আমি সমর্থর করব।’

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নাদিম উদ্দিন বলেন, গত ২৯ জুলাই জিডিটি বোয়ালিয়া থানায় করা হয়েছে। বাদী এবং বিবাদী উভয়ের সঙ্গেই কথাবার্তা চলছে। হুমকির সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ফয়সাল আহমেদ/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]