যাত্রী সঙ্কটের অজুহাতে বরিশাল থেকে ছাড়ল ঢাকাগামী ৩ লঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২১

যাত্রী সঙ্কট এবং মাস্টার ও সুকানিসহ কর্মচারীরা ছুটিতে থাকার অজুহাত দেখিয়ে শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকাগামী কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। তবে রোববার (১ আগস্ট) যাত্রীদের কিছুটা চাপ থাকায় ছাড়া হয় তিনটি লঞ্চ।

রোববার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল নদী বন্দর ত্যাগ করে লঞ্চ তিনটি। তবে নদী বন্দরে থাকা বাকি পাঁচটি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছে।

কারণ হিসেবে ওই সব লঞ্চের মালিক ও স্টাফরা জানান, নদী বন্দরে আট লঞ্চ আছে। তবে সেই তুলনায় ঢাকায় ফেরার যাত্রী নেই। যাত্রী সংখ্যা বিবেচনা করে বরিশাল থেকে তিনিটি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়া সিদ্ধান্ত হয়। ফলে রাতে ঢাকার উদ্দেশে তিনিটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

jagonews24

বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী এমভি মানামী লঞ্চের ব্যবস্থাপক (কাস্টমার সার্ভিস) মো. রিজওয়ান হোসেন রিপন বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু যে লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে, লকডাউনের কারণে সেই লঞ্চটি ঢাকায় আটকা পড়বে। সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশাল ফিরে আসার উপায় নেই। এছাড়া নদী বন্দরে আটটি লঞ্চের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ কম যাত্রী এসেছে। ওই সংখ্যক যাত্রীতে তিনটি লঞ্চই ভরেনি। এ অবস্থায় আটটি লঞ্চ ছাড়া হলে মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তাই আজ রাতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে তিনটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।’

সুরভী লঞ্চ কোম্পানির পরিচালক রিয়াজ উল কবির বলেন, ‘লঞ্চের মাস্টার, সুকানিসহ কর্মচারীরা ছুটিতে আছেন। তাদের অনেকের বাড়ি দূর-দূরান্তে। তারা অনেকেই বাড়ি থেকে আসতে পারেননি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাস্টা-ড্রাইভার লঞ্চে নেই। দুজন মাস্টার ও দুজন ড্রাইভার ছাড়া লঞ্চ চালানো যায় না। তাই তারা লঞ্চে যাত্রী পরিবহন আজ করছেন না।’

jagonews24

লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির মালিক মো. সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ লঞ্চ চলাচলের ঘোষণা দিতে দেরি করেছেন। অন্যদিকে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন রফতানিমুখী শিল্পকারখানা আজ (রোববার) থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। ছুটিতে থাকা বেশিরভাগ শ্রমিক শনিবারই সড়ক পথে ঢাকায় ফিরেছেন। তাই লঞ্চে ঢাকা ফেরার তেমন যাত্রী নেই। আজ যে যাত্রী হয়েছে আটটি লঞ্চ চালানো সম্ভব ছিল না। এতে জ্বালানি খরচও উঠত না।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নদী বন্দরে আটটি লঞ্চ ছিল। তবে সে তুলনায় যাত্রী ছিল না। বিকেল থেকে নদী বন্দরে ঢাকাগামী যাত্রীদের কিছুটা চাপ বাড়তে থাকে। এরপর তিনজন মালিক তাদের লঞ্চে যাত্রী বহনে রাজি হন। রাতে যাত্রী নিয়ে কীর্তনখোলা-২, কুয়াকাটা-২, ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামে তিনটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।’

সাইফ আমীন/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]