টানা বৃষ্টিতে খুলনায় আমনের বীজতলা তলিয়ে সাড়ে ১১ কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২১
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত

খুলনা জেলায় এবার ৫ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের বীজতলা ও ৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় উপকূলের ২ হাজার ৩৯৭ হেক্টর বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। এতে প্রায় ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায় বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

এছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে ছোট বড় সহস্রাধিক চিংড়ির ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামের ছোট ছোট রাস্তা।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সূত্রে জানা যায়, ২৭ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চারদিন টানা বৃষ্টি হয়েছে খুলনায়। এর মধ্যে ২৭ জুলাই ১৩ মিলিমিটার, ২৮ জুলাই ৩৩ মিলিমিটার, ২৯ জুলাই ২১ মিলি মিটার ও ৩০ তারিখে ৫০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২ হাজার ৮০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলার মধ্যে ৯৩০ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৫০৮ জন কৃষক। এছাড়া ৩১৭ হেক্টরের মধ্যে ১৮ হেক্টর সবজির ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৩৫ জন কৃষক।

কয়রা উপজেলার কৃষকরা জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন কৃষকরা। সেজন্য ৮ হাজার বিঘা জমিতে চাষিরা ব্রি-১০, ২৩, ৩০, ৬৭, ৫২, ৮৭,৭৬ ও ৪৯ সহ স্থানীয় জাতের কিছু ধান বীজতলা হিসেবে জমিতে বপন করেছেন। কিন্তু চারদিনের বৃষ্টিতে প্রায় ৮০ভাগ বীজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চলতি মৌসুমে উক্ত বীজতলা দিয়ে নির্ধারিত জমিতে ধান রোপণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক।

কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চারদিনের টানা বৃষ্টির ফলে এ উপজেলার ৭০-৮০ শতাংশ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩-৪ দিন পর বৃষ্টির পানি নেমে গেলে এবং সার ও কীটনাশক সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তেমন সমস্যা হয় না। তবে মৎস্য চাষের এলাকা হওয়ার কারণে বিভিন্নস্থানে বাধ দেয়ার ফলে পানি নামার জায়গা পাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষককে পরামর্শ দিয়েছি, তাদের বাড়িতে থাকা বাড়তি বীজগুলো দিয়ে নতুন করে অল্প জমিতে বীজতলা তৈরি করতে। যাতে পানি সরে গেলে ফসলি জমি ফাঁকা পড়ে না থাকে। যেহেতু শীত মৌসুমে এখানে ধান চাষ কম হয়, তাই পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে প্রয়োজনে চারা কিনে হলেও জমিতে রোপণ করতে পরামর্শ দেয়া হয়। যাতে করে ক্ষতির পরিমাণ কিছু হলেও কমে।’

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য অন্যান্য উপজেলায় অতিরিক্ত কিছু বীজতলা করা হয়েছে। যা কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় যদি আমরা সরবরাহ করতে পারি, তাহলে তারা কিছুটা হলেও লাভবান হবে। আর একটি উপায় হতে পারে, যে সব ধান দেরিতে বপন করা যায়, এ ধরনের ধানের বীজগুলো যদি আমরা সরবরাহ করতে পারি তবে নতুন বীজতলা করে ধান চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।’

আলমগীর হান্নান/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]