সন্তানের দুধ কিনতে রিকশা চালানো সেই চিত্রশিল্পীর পাশে বন্ধুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২১

বিধিনিষেধে বাধ্য হয়ে সন্তানের জন্য দুধ কিনতে রিকশা চালানো চিত্রশিল্পী মাহবুব আলমের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন জেলা প্রশাসন ও তার সহপাঠীরা।

শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে মাহবুব আলমের হাতে নগদ অর্থ ও একটি কম্পিউটার তুলে দেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার।

এসময় নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. নাজমূল হুদা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুব আলম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে তার উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। দোকানে বিক্রি নেমে আসে শূন্যের কোটায়। সাইনবোর্ড লেখার কাজও পাওয়া যেত না। প্রায় দুই বছর ধরে এ অবস্থা চলছিল। সংসার চালাতে গিয়ে দোকানের কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করতে হয়। সন্তানের জন্য দুধ কিনতে এবং নিজেদের দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে রিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ি।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, আমার রিকশা চালানোর বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ও স্কুল জীবনের সহপাঠীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের এ সহায়তার ঘুরে দাঁড়াতে পারবো বলে আশা করছি।

মাহবুব আলম নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা। সেখানে স্ত্রী ও দুই বছরের কন্যাসন্তান নিয়ে বাস করেন। মাহবুব আলম ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করেন। দারিদ্র্যতার কারণে আর পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি। এরপর জীবিকার তাগিদে নগরীর একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করতেন। করোনা পরিস্থিতির আগে নগরীর কালীবাড়ি রোডে তার একটি ছোট্ট দোকান ছিল। রাবার স্ট্যাম্প, কম্পিউটার সিল তৈরি, ব্যানার, সাইনবোর্ড লেখার কাজ করতেন তিনি। কিন্তু করোনার শুরুর দিকে ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। একপর্যায়ে লোকসানের কারণে তার দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, নতুন করে দোকান পরিচালনার মাধ্যমে আশা করি মাহবুব আর্থিক অনটন দূর করতে পারবেন।

সাইফ আমীন/আরএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]