মাছ চাষে বছরে কোটি টাকা আয় জয়নাল আবেদীনের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বিশাল মৎস্য খামার জয়নাল আবেদীনের। ৬০ একর জমিতে ২০টি পুকুরে মাছ চাষ করেন তিনি। বছরে বিক্রি করেন প্রায় তিন কোটি টাকার পাঙাশ মাছ।

পরিশ্রম আর মনোবলকে কাজে লাগিয়ে জয়নাল আবেদীন এখন সফল মৎস্য চাষি। বদলেছেন নিজের ভাগ্যের চাকা, কিনেছেন জমি। মাছ চাষে সফল জয়নাল এখন সবার অনুপ্রেরণা।

জয়নাল আবেদীন ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকার আফসর উদ্দিনের ছেলে। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে স্থানীয় এক মৎস্য চাষি বন্ধু তাকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। পরে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটে (বিএফআরআই) গিয়ে মাছ চাষের পরামর্শ নেন তিনি। পরে পাঙাশ মাছের পোনা সংগ্রহ করে প্রথমে ছোট পাঁচটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভ হয়। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ান পুকুরের সংখ্যা। বাড়াতে থাকেন পুকুরে পোনা ছাড়ার সংখ্যাও। এরপরে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

jagonews24

জয়নালের মৎস্য খামারে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির ২০টি পুকুরে মাছকে খাবার দিতে ব্যস্ত কর্মচারীরা। অনেকেই করছেন পুকুরের পরিচর্যা। মোট ২০ জন কর্মচারী কাজ করছেন তার মৎস্য খামারে। আশপাশের বিভিন্ন বয়সী মানুষ তার মৎস্য খামারে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, জয়নাল আবেদীন মাছ চাষ করে অল্প সময়ে সফলতা পেয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়েছেন। এমন দৃষ্টান্ত দেখে স্থানীয় অনেক বেকার যুবকই মাছ চাষে ঝুঁকছেন। এরই মধ্যে অনেক যুবক সফলতাও পেয়েছেন।

jagonews24

জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘২৬ বছর হলো মাছ চাষে সম্পৃক্ত হয়েছি। লাভ না হলে এখানে টিকে থাকা সম্ভব ছিল না। তবে শুরুটা ছিল কঠিন। মনের ভেতর প্রচণ্ড সাহস আর আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে দ্রুত সফলতা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাছ চাষ করার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানালে প্রথমে বাধা দেন তারা। তাদের বুঝিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। এখন আমি সফল। আমি মনে করি দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের সরকারিভাবে সহায়তা করে মাছ চাষে আগ্রহী করে তোলা উচিত। এতে দেশের বেকার সমস্যা কমবে পাশাপাশি উন্নত হবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার।’

পাঙাশ চাষ করে আরও অনেক যুবক সফলতা পেয়েছে জানিয়ে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বেকার অনেক ছেলে আমার কাছে আসছে। তাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। অনেক যুবক এরই মধ্যে মাছ চাষে সফলতা পেয়েছে।’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই পাঙাশ চাষ লাভজনক ছিল। এ কারণে অনেকেই এই মাছ চাষে আগ্রহী হন। আগে পাঙাশের পোনা জেলার বিভিন্ন হ্যাচারিতে পাওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমানে বগুড়া ও সান্তাহার থেকে আনতে হয়। গত দুই বছর যাবত পাঙাশ মাছ দেশের বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। এ কারণে অনেক মৎস্য চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আশা করি দেশের বাইরে পাঙাশ রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হবে।’

ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, জেলায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৮ টন মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে মাছের চাহিদা রয়েছে এক লাখ টনের কিছু বেশি। উদ্বৃত্ত মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়। সারা দেশে সাড়ে চার লাখ টন পাঙাশ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ টনই উৎপাদন হয় ময়মনসিংহে।

মঞ্জুরুল ইসলাম/এফআরএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]