চাকরি চেয়ে ফেসবুক পোস্ট দিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেলের সাবেক পরিচালক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজের জন্য একটি চাকরির আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক (অব.) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসির উদ্দীন আহমেদ।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৫৬ মিনিটে তিনি স্ট্যাটাসটি দেন। চাকরি চেয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের এমন পোস্ট মুহূর্তে আলোচনার জন্ম দেয়। স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন শুভাকাঙ্ক্ষী। আজ ১ বছর ২ মাস ঘরে বসা। এলপিআর শেষ। সংসার ও নিজকে কর্মক্ষম রাখতে কিছু করা প্রয়োজন। নিজের ভবিষ্যৎ চিন্তা করিনি। হালাল ও হারামের সংমিশ্রণে এ জীবন। মেডিকেল ও নন মেডিকেল যে কোনো সেক্টরে কোনো নিবেদিত ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান আমাকে বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে চাকরির সুযোগ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।

এরপর তিনি সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আরও একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তার সেনাবাহিনীতে চাকর-পরবর্তী জীবনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ওই স্ট্যাটাসে লিখেছেন-

সেনাচাকরি-পরবর্তী জীবন

‌শ্রদ্ধাভাজন প্রাক্তন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া স্যারের অধীনে ঢাকা সিএমএইচে আধুনিকায়নের কাজে নিবেদিতভাবে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে রিটায়ারমেন্টের চারদিন আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছর ৮ মাস ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেছি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। দুইজন ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়েকে একা ঢাকা রাখা এবং অসুস্থ মাকে রেখে ময়মনসিংহে একা থাকতে হয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ এবং ক্ষমতাধর মানুষ তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। অবসরে আসার পর তারা যেখানেই সিভি দেই সেখানে নেগেটিভ ফিডব্যাক দেয় আমার সম্পর্কে।

আল্লাহ সব কিছু দেখছেন। তিনি সব কিছুর হিসাব নেবেন। আমি চাকরিজীবনে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে নানা অসুখে আক্রান্ত হয়েছি। আমি কারো আনুকূল্যে বাঁচতে চাই না। মানুষ হিসেবেই সহযোগিতা চাই। চাকরিজীবনে যেটা দেশের স্বার্থে প্রয়োজন তাই করেছি। পপুলার হতে চাইনি। কর্মীরা কাজ করেন, সংস্থাপ্রধান এর সুফল পান। আমার বাবা দুইবার ’৭৫ পর্যন্ত এমপি ছিলেন। সম্মুখ মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এমবিবিএস ডাক্তার ছিলেন। চাকরিজীবনে এর কোনো সুবিধা নেননি। সব সরকারের আমলে প্রথমবার পদোন্নতি পেয়েছি। অবসরের পর এলপিআর শেষ হয়ে যাওয়ায় পর সংকটে পড়েছি। বর্তমান ব্যাংকের লভ্যাংশ ৬%। যারা ব্যাংকে টাকা রাখেন তারা বোঝেন সংকট কী।

আমি ব্যবসা বুঝি না। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির নিবেদন করেছি। আল্লাহ চাইলে হবে না চাইলে হবে না। আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবো না। রাজনীতি না করেও এমপি না হয়েও দেশের জন্য কাজ করা যায়। যদিও আমি রাজনীতি সচেতন মানুষ। জাতির পিতার বর্তমান আওয়ামী লীগকে পছন্দ করি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। আমি জাতির জনককে শ্রদ্ধা করি ও উনার পরিবারের সবার মাগফিরাতের দোয়া করি। সেনাবাহিনীর যে সংস্থাপ্রধান তার অধীনদের বিপদের মুখে ফেলে হাত গুঁটিয়ে নিজের স্বার্থ দেখেন, তিনি সংস্থাপ্রধান হলেও ভালো লিডার হতে পারেন না।

সর্বশেষ সোমবার দিনগত রাত ১টা ৫১ মিনিটে অবসরপ্রাপ্ত এ ব্রিগেডিয়ার লিখেছেন-

#নিবেদন ও আমার বক্তব্য

আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী হতাশ হয়েছেন এ পোস্ট দেখে। আমার সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী এটা করা উচিত হয়েছে কিনা এটা নিয়ে তাদের ভাবনা।
আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কাজ করতে চাওয়া অপরাধ নয়। পেট চালানোর জন্য নয়। নিজকে কার্যক্ষম রাখতে চাওয়া অপরাধ নয়। হেলথ সেক্টরে অনেকেই জানি কেমন মানুষ তারা? যারা আমাকে ভালোবাসেন তারা আমাকে অবশ্যই পরামর্শ দেবেন। আপনাদের দোয়া ও শুভকামনা কাম্য। আমারও ভুল হয়। আমার কাছে যা ঠিক তা অন্যের কাছে নাও হতে পারে। আমি আমার লক্ষ্যকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

বিনীত
ব্রিগেডিয়ার নাসির (অব.)

এ বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার মো. নাসির উদ্দীন আহমেদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা ব্যস্ত দেখায়।

মঞ্জুরুল ইসলাম/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]