দাঁতের চিকিৎসায় খিঁচুনির ওষুধ, আদালতে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৬:৩৭ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় দাঁতের চিকিৎসার বদলে খিঁচুনির ওষুধ দেওয়ায় ক্ষত দেখা দিয়েছে রাফি নামের এক শিশুর পুরো শরীর। এ ঘটনায় কথিত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে তিনি মামলাটি করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার একমাত্র আসামি কথিত চিকিৎসক মফিজুল হক। তিনি রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার এমাদপুর মহল্লার সান্ডু মণ্ডলের ছেলে। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)। কিন্তু তিনি কাটাখালী বাজারে ‘চিকিৎসক’ উপাধি ব্যবহার করে চেম্বার খুলে প্র্যাকটিস করছেন।

মামলার বাদী আয়নাল হকের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার দালালপাড়া গ্রামে। সম্প্রতি তিনি তার ছেলে আবদুর রাফিকে (৭) মফিজুলের চেম্বারে নিয়ে যান পোকা লাগা একটি দাঁত তুলতে। তবে দাঁত তোলার পরও ব্যথা কমেনি। ২৬ আগস্ট তিনি আবার তার চেম্বারে যান। তখন মফিজুল হক একটি সিরাপ দেন। তবে তিনি যে সিরাপ দিয়েছিলেন সেটি খিঁচুনি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে জানান আয়নাল হক।

আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বাবু। বাদীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সিরাপ সেবনের আধাঘণ্টার মধ্যে শিশুটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সারা শরীর চুলকানিতে আগুনে ঝলসে যাওয়ার মতো ফোসকা পড়ে যায়। এমনকী শিশুটি খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ করে দেয়। এখনও শিশুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন। শিশুটির চোখ ও কণ্ঠনালীর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসকরা।

আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুটির ভোগান্তি এবং একইসঙ্গে চোখ ও কণ্ঠনালীর ক্ষতির বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আগামী ২৩ নভেম্বর এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদারকে নির্দেশনাও দিয়েছেন আদালত।

ফয়সাল আহমেদ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]